আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এখন ভারত সফরে আছেন। তার সঙ্গে আছেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পল। এবার মেসির ভারত সফর আয়োজনের নাম ‘গোট ট্যুর অব ইন্ডিয়া ২০২৫’। এই ট্যুরের অংশ হিসেবে প্রথমে মেসি পা রাখেন কলকাতায়। আর সেখানেই দেখা গেল চরম হট্টগোল, দর্শকদের ভাঙচুর এবং পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনা। মেসিকে কাছ থেকে দেখার আশায় চড়া দামে টিকিট কেটে মাঠে এসেছিলেন হাজারো ভক্ত। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ঘটে এমন ঘটনা। পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এমন পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চান। মেসি গতকালই কলকাতা ছেড়ে হায়দরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয় মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে।
মেসি শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতা পৌঁছান। সকালে লেক টাউন এলাকায় শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে স্থাপিত নিজের ৭০ ফুট উচ্চতার বিশাল ভাস্কর্য ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী তারকা। হায়াত রিজেন্সিতে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী সুজিত বসুর আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই মূর্তি উন্মোচন করেন মেসি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে স্প্যানিশ ভাষায় বক্তব্য দেন তিনি, ধন্যবাদ জানান ‘মুচাস গ্রাসিয়াস’ বলে। সেখানে শাহরুখ খান, কলকাতার অভিনেত্রী শুভশ্রীসহ অনেকে দেখা করেন মেসির সঙ্গে। মেসির আগমন উপলক্ষে সল্টলেক স্টেডিয়ামে মোহনবাগান ও ডায়মন্ড হারবারের মধ্যে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। বিশ্বকাপজয়ী মেসির আগমনে সল্টলেক স্টেডিয়াম উৎসবের নগরীতে পরিণত হওয়ার কথা ছিল, তবে অব্যবস্থাপনা আর বিশৃঙ্খলায় তা রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। একপর্যায়ে গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখতে না পারার ক্ষোভে বোতল ছুড়তে শুরু করে। কয়েকটি স্থানে ব্যানার ও আসন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। অনেক দর্শক মাঠের ভেতর ঢুকে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে মেসিসহ বাকিদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠের কার্পেট, ঘাসসহ অনেক কিছু বাড়ি নিয়ে যান। হতাশ এক ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মেসির চারপাশে শুধু নেতা আর অভিনেতারাই ভিড় করেছিলেন। তাহলে আমাদের কেন ডাকা হলো? আমরা ১২ হাজার টাকার টিকিট কেটেছি অথচ তার মুখটাই ঠিকমতো দেখতে পারলাম না।’ স্টেডিয়ামে উপস্থিত কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে দর্শকদের দুয়োধ্বনি দিতে দেখা যায়।
মেসির এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলার খবরে তিনি আর যাননি। পরে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী ও সমর্থকের সঙ্গে আমিও আজ স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলাম, তাদের প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসিকে এক পলক দেখার জন্য। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য আমি লিওনেল মেসিসহ সব ক্রীড়াপ্রেমী ও তার ভক্তের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’ তিনি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন।
পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, সরকার গঠিত একটি কমিটি পুরো ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখবেÑ ভেন্যুতে যে বিপর্যয় ঘটেছে, তাতে ব্যবস্থাপনার গাফিলতির কোনো ভূমিকা ছিল কি না তাও পরীক্ষা করা হবে। ‘আমরা আয়োজকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বিক্রি হওয়া সব টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা মূল আয়োজককে (শতদ্রু দত্ত) আটক করেছি এবং নিশ্চিত করছি, এই অব্যবস্থাপনার জন্য কেউ পার পাবে না। দর্শকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’
আজ ১৪ ডিসেম্বর মেসি যাবেন মুম্বাই শহরে। এরপর ১৫ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে যাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা আছে তার।