সুদানে সন্ত্রাসী হামলা

‘দেশের জন্য ভাই শহীদ হয়েছেন, আমরা গর্বিত’

সুদানের আবেই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শহীদের তালিকায় রয়েছেন নাটোরের লালপুরের বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের সন্তান কর্পোরাল মাসুদ রানা (৩০)। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) তার মৃত্যুর খবর প্রথম জানতে পারেন ছোট ভাই সেনাসদস্য রনি আলম। পরে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানান। এরপর থেকে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ।

শহীদ কর্পোরাল মাসুদ রানা বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের সাহার উদ্দিনের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন মাসুদ রানা। তার মেজো ভাই মনিরুল ইসলাম ২০১২ সালে ও  ছোট ভাই রনি আলম ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সর্বশেষ তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ১৯ বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত থেকে দেশের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মাসুদ রানা।

ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে ছোট ভাই রনি আলম বলেন, দেশের জন্য আমার ভাই শহীদ হয়েছেন। এতে আমরা গর্বিত। তবে এই শোক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা মর্জিনা খাতুন বলেন, শুক্রবারও ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। সে বলেছিল, মা এখন আর কষ্ট নেই, ডিউটি কম। আমাকে ভালো থাকতে বলে শনিবার চলে গেল।

স্ত্রী আসমাউল হুসনা আঁখিও স্বামীর মৃত্যুতে শোকে বাকরুদ্ধ। কথা বলতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের পাশে থাকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।