বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অনার বোর্ডে সুইপার আনোয়ার লালের নাম রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী এ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে মাথায় করে রেখেছে বিমান। রাষ্ট্রীয় সংস্থা সম্মান জানালেও, স্বীকৃতি দেয়নি রাষ্ট্র।
পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসে (পিআইএ) চাকরি করতেন হরিজন সম্প্রদায়ের আনোয়ার লাল। পিছিয়ে থাকা এই সম্প্রদায়ে তিনি ছিলেন শিক্ষিত ব্যক্তি। মুক্তিবাহিনীকে সহযোগিতা এবং গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর ঘর থেকে তুলে নিয়ে তাকেসহ ১০ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
যুদ্ধ শেষে স্বাধীন ভূখ- পেলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আনোয়ার লালদের স্বীকৃতি মেলেনি। তবে বিভিন্ন সময় নানা সংস্থা সংবর্ধনা দিয়েছে শহীদ পরিবারগুলোকে। স্বীকৃতি না পেলেও তারা পেয়েছেন ক্রেস্ট আর বিরিয়ানি। সম্প্রতি মিরণ জিল্লা হরিজনপল্লীর কলোনিতে এ প্রতিবেদক গেলে আনোয়ার লালের স্ত্রী ও সন্তানরা সংবর্ধনার ক্রেস্ট এবং সদনপত্র বের করে দেখান। এসব সংবর্ধনা থেকে কিছু টাকাও পেয়েছেন তারা। টাকা বা ফ্ল্যাটের প্রয়োজন নেই। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেলেই খুশি তারা। তবে তাদের খুশি করতে কোনো সরকারই এগিয়ে আসেনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী (ক্লিনার) হিসেবে সারাজীবন অবহেলা আর বৈষম্যের শিকার এ বীররা মৃত্যুর পরও বৈষম্যের শিকল ছিন্ন করতে পারেননি। জীবন দিয়েও হতে পারলেন না মুক্তিযোদ্ধা। অথচ নামে-বেনামে মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ নিয়ে নানা খেলা চলেছে।
১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকার নাজিরাবাজারের মিরণ জিল্লা হরিজনপল্লীর কলোনি থেকে প্রথমে শ্রী রামচরণকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনারা। ওইদিন রাতে আরও ১০ জনকে তুলে নিয়ে যায় তারা। তাদের মধ্যে বিমানের আনোয়ার লালও ছিলেন। তাদের রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে পাকিস্তানি বাহিনী। ব্রাশফায়ারের একমুহূর্ত আগে লাইন থেকে পড়ে গিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান রামদিন। ঘটনার দুদিন পর রামদিন কলোনিতে গিয়ে ১০ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হত্যার খবর জানান। ওইদিন শহীদ হওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হলেন শ্রী রামচরণ, আনোয়ার লাল, মাহাবীর লাল সামুন্দ, শ্রী লাল্লু দামানকার, শ্রী নন্দা লাল, শ্রী ঈশ্বর লাল, শ্রী নান্দু লাল সর্দার, শ্রী ঘাশিটা দাশ, শ্রী খালবাল ও শ্রী শংকর দাস হেলা।
তাছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী সীতা লালের ছেলে মোহন লাল সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষে তিনি আর ফিরে আসেননি। তার লাশের সন্ধানও পায়নি কেউ। সব মিলিয়ে হরিজনপল্লী কলোনির ১১ মুক্তিযোদ্ধা। প্রতি বছর ২২ নভেম্বর শহীদ হওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্মরণ করা হয়। এবারও শহীদ মিনার তৈরি করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে তাদের।
বিভিন্ন সময় এসব অনুষ্ঠানে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা গিয়েছেন। শহীদদের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু অনুষ্ঠান থেকে ফিরে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেননি।
আনোয়ার লালের স্ত্রী বনো দেবী দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০১৩ সালে একটি শীর্ষ স্থানীয় জাতীয় দৈনিক তাদের সংবর্ধনা দেয়। সেখানে একটি ক্রেস্ট, ২৫ হাজার টাকা, খাবার এবং যাতায়াত খরচ দেওয়া হয়। এর দুই থেকে তিন বছর পর সিরডাপ মিলনায়তনে ডেকে আরও একটি সংস্থা তাদের সংবর্ধনা দেয়। বছর বছর সরকারের কর্তাব্যক্তিরাও মিরণ জিল্লায় গিয়ে এসব শহীদের পরিবারকে ক্রেস্ট আর বিরিয়ানি দিয়ে আসেন।
মিরণ জিল্লার হরিজনপল্লী কলোনির শহীদ পরিবার ও সমাজের নেতাদের ভাষ্য, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বরাবরই অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো গৌরবের অংশীদার হওয়ার পরও রাষ্ট্র তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সব সরকারই নিম্নশ্রেণি বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।
হরিজন সম্প্রদায় তাদের সন্তানদের আত্মোৎসর্গের স্বীকৃতির জন্য স্থানীয় এমপি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এবং বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে ধরনা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শহীদের ছেলে জানান, এ স্বীকৃতির জন্য আবেদনের পাশাপাশি টাকাও খরচ করেছেন তারা। স্থানীয় একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দুই বছর আগে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
একাত্তর সালের ২২ নভেম্বর নিহত মাহাবীর লাল সামুন্দের ভাতিজা হরিজন সেবক সমিতির সাবেক সভাপতি গগন লাল সামুন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু আমরা শহীদ পরিবার হিসাবে কোনো স্বীকৃতি পাই না। বরং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দাবিদার একটি দল ক্ষমতায় এসে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিতে চেয়েছিল।’
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর শিক্ষিত ও উচ্চশ্রেণির মানুষদের নিয়ে নানা ইতিহাস রচনা হলেও এ মানুষগুলো বরাবরের মতো আড়ালেই থেকে যায়। হরিজন সম্প্রদায়ের চাওয়া, নানা শোষণ-বঞ্চনা পেরিয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলাদেশে আনোয়ার লাল বা শ্রী রামচরণদের ইতিহাস নতুন করে লেখা হবে। সরকার পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠীর অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দেবে বলে প্রত্যাশা করছেন পিছিয়ে থাকা এ পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ হরিজন ছাত্র ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হৃদয় দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। এখনো আমাদের সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা অনার্স-মাস্টার্স পাস করে ভালো চাকরি পাচ্ছে না। আমাদের পূর্বসূরিরা যখন জীবন দিয়েও স্বীকৃতি পায় না, তখন আমরাও অনুভব করতে পারি শাসকশ্রেণি আমাদের কতটা নিচু চোখে দেখে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব হাজারো শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সম্মান ও স্বীকৃতি দেবে।’
লাশ নিয়ে যাওয়া হয় ধলপুরে : কলোনির প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের পর লাশ গুম করা এবং শহরের রাস্তা পরিষ্কার করাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যবহার করা হয়। ২৮ মার্চ পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল কলোনিতে গিয়ে ১২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ধরে নিয়ে যায়। এভাবে ঢাকার অন্য কলোনিগুলো থেকেও তাদের যেতে বাধ্য করে পাকিস্তানি সেনারা। তাদের দিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় লাশ ও রক্ত পরিষ্কার করা হয়। মিরণ জিল্লার ক্লিনারদের দিয়ে জগন্নাথ হল, টিএসসি, বংশাল, ইংলিশ রোডের লাশ গাড়িতে ওঠানো হয় এবং ধলপুরে নিয়ে ফেলা হয়। বর্তমানে ধলপুর আউটফলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বসবাসের জায়গায় তৎকালীন সময় ডোবা ছিল। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষকে হত্যার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে ধলপুর ডোবায় ফেলা হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগপর্যন্ত এভাবে অসংখ্যবার ডাক পড়ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের।
অস্ত্র সরবরাহ এবং গুপ্তচরবৃত্তি : পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পেও যেতে হতো। যারা ক্যাম্পে যেতেন তাদের একজন ঈশ্বর লাল। তিনি উর্দুভাষা বুঝতেন। পাকিস্তানি সেনাদের টয়লেট পরিষ্কারের জন্য তাকে নেওয়া হতো। সেনা ক্যাম্পে যাতায়াতের সুবাদে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অনেক তথ্য ও পরিকল্পনা তিনি জানতেন। ক্যাম্প থেকে ফিরে এসব তথ্য দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের।
সেই সময় ঢাকা পৌরসভার বর্জ্য গরুর গাড়িতে করে পরিবহন করা হতো। এ সুযোগে অনেক ক্লিনার গরুর গাড়ির মধ্যে ময়লা-আবর্জনার নিচে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতেন। অনেক সময় সেসব অস্ত্র কলোনিতে রাখা হতো। এসব নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন বৈঠকে ক্লিনাররাও উপস্থিত থাকতেন বলে জানান কলোনির প্রবীণ সদস্যরা। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চের পর আনোয়ার লাল প্রায়ই রাতের বেলা বাইরে যেতেন। স্ত্রীকে বলে যেতেন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মিটিং আছে।
বাবা-ছেলে, শ্বশুর-জামাই একসঙ্গে শহীদ : শহীদ হওয়ার সময় আনোয়ার লাল এবং রামচরণ লালের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিলেন। রামচরণ লালের স্ত্রী রানী দেবী ওই রাতের (একাত্তরের ২১ নভেম্বর) ঘটনা বর্ণনা করে জানান, ঘরে ঢুকেই তারা গালিগালাজ করতে থাকে। তাদের কাছে নাকি তথ্য ছিল রামচরণ মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে চলাচল করে। রামচরণকে রক্ষা করতে তিনি এক সেনার পায়ে ধরেন। তাকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয় ওই সেনাসদস্য।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বামীকে ধরে নেওয়ার পর আমার বাবা লাল্লু দামানকারকেও ধরে নিয়ে যায়। একসঙ্গে জামাই-শ্বশুরকে হত্যা করে। স্বামী এবং বাবা হারিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়ি। সেই সময়টা পেটের সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে কাটে।’
কলোনির জ্যেষ্ঠ সদস্যরা জানান, উর্দুভাষা জানা ঈশ্বর লালকে ধরে নিতে গেলে তার বাবা নান্দু লাল বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। একসঙ্গে বাবা-ছেলেকে ব্রাশফায়ার করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
‘স্বীকৃতির জন্য ৫০ বছর ধরে ঘুরছি’ : সম্প্রতি বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয় মিরন জিল্লা পঞ্চায়েত কমিটির সর্দার বাইজু লালের সঙ্গে। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ১৬ বছর। তিনি একাত্তরের ২২ নভেম্বর শহীদ হওয়া আনোয়ার লালের ছোট ভাই। যেদিন আনোয়ার লালকে ধরে নিয়ে যায়, সেদিন বাইজু লাল ও তার ছোট ভাই লুকিয়ে ছিলেন। এ সময় তার ভাইকে বাঁচাতে গেলে বড় বোন যুগ্নুকে রাইফেল দিয়ে আঘাত করে পাকিস্তানি সেনারা।
বাইজু লাল সর্দার বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলোনিতে এসে প্রত্যেক পরিবারকে ২ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিখিল বালা তাকে এখানে নিয়ে এসেছিল। এরপর ৫০ বছর ধরে সরকারি অফিসে ঘুরছি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, জামুকা অফিসসহ সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে আমরা ক্লান্ত। অপমান আর বঞ্চনার কারণে এখন আর কাউকে বলি না।’
সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা হয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশরাত চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই ও স্বীকৃতির কাজ করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। উপযুক্ত প্রমাণসহ তাদের কাছে আবেদন করতে হবে। জামুকা আবেদন যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের আলোকে মন্ত্রণালয় গেজেটভুক্ত করে।’
জামুকার চেয়ারম্যান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত খেটেখাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এ সময় অনেকেই ভারতে গিয়ে আয়েশী জীবনযাপন করেছে। আবার কেউ নিজেদের গা বাঁচিয়ে চলেছে। আমরা দেখেছি, ১৯৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেও মুক্তিযোদ্ধার সনদ পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই বছর বয়সী মানুষও মুক্তিযোদ্ধা বনে গেছে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘উচিত ছিল স্বাধীনতার পরই এসব বিষয় সমাধান করা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রিকারীরা শুধু মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করেছে। এসব সমস্যা সমাধান করেনি। এখন অনেক ডকুমেন্টসও পাওয়া যাবে না। এরপরও যদি এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়, সরকার তাদের স্বীকৃতি দেবে।’