নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট জিতেছিলে বাংলাদেশ মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে। সেই মাঠেই রেকর্ডময় এক দিন দেখা গেলো নিউজিল্যান্ড-উইন্ডিজ তৃতীয় টেস্টে।
গত ১৪ বছরে ঘরের মাঠে ২৫ টেস্টে টস জিতে নিউজিল্যান্ডের কোনো অধিনায়ক যা করেননি তাই করলেন টম ল্যাথাম- আগে ব্যাটিং। আর সুবজাভ উইকেট দেখে টসে হেরেও উইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ খুব খুশি হয়েছিলেন তার পেসাররা বল করতে পারবে বলে। কিন্তু সারাদিন বলের পেছনেই ছুটতে হয়েছে তাদের। শেষ বেলায় এসে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে কেমর রোচ একটা উইকেট নিতে পেরেছেন। কিন্তু ততোক্ষণে ল্যাথাম আর কনওয়ে ৩২৩ রান তুলে ফেলেছেন।এরপর জ্যাকব ডাফিকে (৯*) নিয়ে ৯০ ওভারে ১ উইকেটে ৩৩৪ রানে দিনের খেলা শেষ করেন ১৭৮ রানে অপরাজিত থাকা কনওয়ে। ল্যাথামের ক্যারিয়ারে এটি ১৫তম সেঞ্চুরি, কনওয়ের ষষ্ঠ।
নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসে ৩২৩ রানের জুটিটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের। ১৯৭২ সালে জর্জটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই কিউই ওপেনার গ্লেন টার্নার ও টেরি জার্ভিসের ৩৮৭ রানের জুটি এই তালিকায় সর্বোচ্চ। তবে ৩২৩ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড। । আগের রেকর্ডটি ছিল ২৭৬ রানের- ১৯৩০ সালে ওয়েলিংটনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গড়েন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার স্টিউয়ি ডেম্পস্টার ও জ্যাকি মিলস গড়েছিলেন। ৬৯ বছর পর ১৯৯৯ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সে রেকর্ডে ভাগ বসান ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেরউইন ক্যাম্পবেল ও অ্যাড্রিয়ান গ্রিফিথ ওপেনিং জুটি।
অবিশ্বাস্য ধৈর্য ও দক্ষতা নিয়ে ব্যাট করেছেন ল্যাথাম ও কনওয়ে। ২৮ ওভারে বিনা উইকেটে ৮৩ রানে লাঞ্চে যান দুজন। তখনো কেউ ফিফটি পাননি। চা–বিরতির সময় কনওয়ে সেঞ্চুরি পান ১৪৭ বলে, এই সেশনে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৫৭ ওভারে ২১৬। শেষ সেশনে ল্যাথাম সেঞ্চুরি তুলে নেন ১৮৩ বলে। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ৮৩.২ ওভারে নতুন বল নেওয়ার পর ওপেনিং জুটি ভেঙে ক্যারিয়ারের ২৯৪তম উইকেট নেন কেমার রোচ।
প্রথম দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৯০ ওভারে ৩৩৪/১ (কনওয়ে ১৭৮*, ল্যাথাম ১৩৭, ডাফি ৯*; রোচ ১/৬৩, গ্রিভস ০/৫৫, সিলস ০/৬৭, ফিলিপ ০/৭১, চেজ ০/৭৫)