পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দ-পাল ইউনিয়নের বিনয়পুর গ্রামের কৃষক ভুপেন্দ্র নাথ রায় ও বিনয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শান্তনা রানী মহন্তের যমজ কন্যা পূজা রানী রায় ও পলি রানী রায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলে পূজা রানী রায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে এবং পলি রানী রায় নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রত্যন্ত এলাকায় দুই বোনের এমন সাফল্যে এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ, উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পূজা জানান, তিনি একজন কার্ডিওলজিস্ট হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। অন্যদিকে পলি রানী রায়ের স্বপ্ন একজন গাইনোকলজিস্ট হয়ে মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে ভূমিকা রাখা। তারা এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তুলে ধরেন।
এদিকে, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামের মুরারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মশিউর রহমান ও নাজমুন নাহারের যমজ কন্যাসহ তিন কন্যাসন্তানের জনক। তিন কন্যাকে শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না তাদের। তবে সেই চিন্তা দূর করছেন মেধাবী যমজ কন্যা মুসফিকা নাসনিন ও মাখনুন আখতার। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় একসঙ্গে উন্নীত হয়েছেন দুই বোন। এ যেন ভাঙা ঘরে চাঁদের হাসি। মশিউর রহমান ও নাজমুন নাহার দম্পতির সঙ্গে আনন্দে ভাসছে ওই এলাকা।
গত শুক্রবার সারা দেশে একযোগে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার ফলে দেখা যায় বোচাগঞ্জ উপজেলার মশিউর রহমান ও নাজমুন নাহার দম্পতির যমজ কন্যা একই সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের অজপাড়াগাঁয়ে তাদের বাড়ি। গত রবিবার মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর থেকে পুরো গ্রামের মানুষ ভিড় করছে তাদের বাড়িতে।
তাদের মা নাজমুন নাহার বলেন, ‘তিন কন্যাসন্তান নিয়ে কখনো দুশ্চিন্তা করিনি, যেভাবেই হোক তাদের লেখাপড়া চালিয়ে গেছি।’