আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে ধারাবাহিক কৌশলগত বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এসব বৈঠকে প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠ পরিচালনা, প্রচারণার কৌশল এবং দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যে তিন দফা বৈঠক হয়েছে। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকের প্রথমদিনেই পঞ্চগড়-১ আসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসনের ১০৭ জন প্রার্থীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। বৃহস্পতিবারও একই ধারা অব্যাহত থাকে। গত ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর দুদিনে ১৯০ জন প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় হয়। শুক্রবার বিরতির পর গতকাল শনিবার তৃতীয় দিনের মতো বৈঠকে দেওয়া হয় নানা দিকনির্দেশনা। প্রতিদিনের বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সূত্র জানায়, এসব মতবিনিময় সভাকে মূলত একটি ‘কর্মশালা’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সঠিকভাবে পূরণ, হলফনামায় মামলার তথ্য উল্লেখ এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রচারণার ক্ষেত্রে ভোটারদের কাছে দলের ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত অতিগুরুত্বপূর্ণ আট দফা তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মাস কার্ড, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বলা হয়েছে। ভোটের দিন কেন্দ্র দখলের বিষয়ে নজর রাখা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি প্রার্থীকে একজন ইলেকশন এজেন্ট, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণে সক্ষম দুজন এবং একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের নাম ও তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটের মাঠ এবং ডিজিটাল প্রচারণাকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়েছে দলটি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে। এরই মধ্যে বিএনপি ২৭২টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই বৈঠকটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ৩১ ও ৮ দফা এবং দলের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রার্থীদের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করছেন। গতকাল তৃতীয় দিনের মতো সভা হয়েছে।’
জানা গেছে, মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও তালিকা নিয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি নির্বাচনী আসনের জন্য মনোনীত একজন ইলেকশন এজেন্ট এবং পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম এমন দুজন ব্যক্তির নাম। পাশাপাশি সংসদীয় এলাকার জন্য প্রার্থীর মনোনীত একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের তথ্যও জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম, পদবি (যদি থাকে), বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, সচল হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং দুই কপি ছবি সঙ্গে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্ব ভোটের দিন কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল প্রচারণাকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। বৈঠকগুলোতে অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রার্থী জানান, ব্যাংকের ঋণ ও অন্যান্য আইনগত ঝামেলা আছে এমন প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য দিতে বলেছে দলটি, যাতে বিকল্প প্রার্থীও ঠিক করে রাখা যায়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় ভিন্নতা আনার কথা আগেই জানিয়েছে বিএনপি। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে দলটি। নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গুলশানে একটি নতুন অফিসও নেওয়া হয়েছে।