বিএনপিতে অসন্তোষ-বিভক্তি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ ও ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে তীব্র আন্দোলন চলছে। এ নিয়ে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে গভীর বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল, সংঘর্ষ ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা দাবি জানিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় সাধারণ সমর্থক ও অনেক নেতা-কর্মী বিব্রত ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর বিএনপি গাজীপুরের চারটি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে। তবে গাজীপুর-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। আইনি জটিলতার কারণে গাজীপুর-৬ আসনেও প্রার্থী দেওয়া হয়নি। পরে ৫ ডিসেম্বর গাজীপুর-১ আসনে সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মজিবুর রহমানকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে উচ্চ আদালতের রায়ে গাজীপুর-৬ আসন বাতিল হওয়ায় সেটি গাজীপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। গাজীপুর-২ আসনে ৩ নভেম্বরই মনোনয়ন দেওয়া হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের ছেলে ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনিকে।

গাজীপুর-১ আসন : আসনটিতে মজিবুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মী। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর অনুসারীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে কালিয়াকৈর, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরে বিক্ষোভ করছেন। এ আন্দোলনে দলের বড় একটি অংশ সমর্থন দিচ্ছেন। অন্যদিকে মজিবুর রহমান নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মনোনয়ন ঘোষণার পর কালিয়াকৈরে মজিবুর রহমান ও ব্যারিস্টার ইশরাকের অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল পোড়ানো হয় এবং উভয় পক্ষের অনেক নেতা-কর্মী আহত হন।

গাজীপুর-২ আসন : উচ্চ আদালতের রায়ে গাজীপুর-৬ আসন বিলুপ্ত হওয়ায় আসনের ভোটার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে টঙ্গীতে রয়েছে ছয় লাখের বেশি ভোটার। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রার্থী মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ, সমাবেশ ও বিক্ষোভ চলছে।

গত ১৫ নভেম্বর টঙ্গীতে হাসান উদ্দিন সরকারের মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনে ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশী এক মঞ্চে উপস্থিত হয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকারকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান। উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার, আফজাল হোসেন কায়সার, রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, হাজী জসিম উদ্দিন ভাট প্রমুখ।

তারা বলেন, আসনের ভৌগোলিক ও নির্বাচনী বাস্তবতা পুরোপুরি বদলে গেছে। পূর্বে টঙ্গী, গাছা ও পুবাইল আলাদা আসনের অংশ ছিল। বর্তমান কাঠামোয় এটি দেশের অন্যতম জটিল ও চ্যালেঞ্জিং আসন হয়ে উঠেছে।

গাজীপুর-২ আসনে মনোনীত প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। টঙ্গীতে এক প্রাক-প্রস্তুতি সভায় সাতজন মনোনয়নপ্রত্যাশী তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

অন্যদিকে গাজীপুর-১ আসনে মজিবুর রহমান বলেছেন, দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও প্রতিহিংসা নেই। সবাই একসঙ্গে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবে।

এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, ‘গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। কারও মনে ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। শেষ পর্যন্ত সবাই ধানের শীষের পক্ষে থাকবেন বলে আশা করি।’

মজিবুর রহমান বলেন, ‘কালিয়াকৈরে সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মী আমাদের সঙ্গে আছেন। শিগগিরই সবাই মাঠে নামবেন।’ তবে বারবার চেষ্টা করেও কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল ও ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুই আসনেই বিভক্তির কারণে সাধারণ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা দুই পক্ষের ডাক পেয়ে দ্বিধায় পড়েছেন। তারা দলের ঐক্য চান এবং প্রতিপক্ষ যাতে বিভক্তির সুযোগ না নিতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।