অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ভারতের মুম্বাই থেকে আটক করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো শাহিদা ফকির (৩৬)। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামের আবুল বাশার ও আরিফা দম্পতির বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছেন তিনি।
শাহিদা ফকিরের দাবি, বাংলাভাষী হওয়ার তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তার দেওয়া তথ্য অনুসারে, তার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার বেড়াচাঁপা থানার গোবিন্দপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মোহাম্মদ আমিনুদ্দিন গাজী। সেখানে তার নিজস্ব বসতভিটা, স্বামী, ১৪ ও ২৩ বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। নিজ দেশ ভারতে স্বামী-সন্তানদের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
শাহিদা ফকির জানান, তিনি গত প্রায় ২০ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে স্বামীর সঙ্গে তিনি দিন মজুরির কাজ করতেন। গত ১৯ জুলাই রাতে মুম্বাইয়ের একটি স্থানীয় বাজার থেকে সবজি-রুটি কিনে ফেরার পথে সেখানকার গোয়েন্দা সংস্থার ৪-৫ জনের একটি দল তাকে আটক করে। বাংলাভাষী এবং মুসলমান পরিচয় পেয়ে তারা তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। তার সঙ্গে থাকা ভারতীয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তা দেখতে অস্বীকৃতি জানায়।
তিনি আরও জানান, তাকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে চার দিন আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ফেনী সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। ফেনী সীমান্ত থেকে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন তাকে অন্য ৫-৬ জনের একটি দলের সঙ্গে গাড়িতে করে বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন। ওই দলের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তারা যার যার মতো চলে গেছেন। কিন্তু তার কোনো যাওয়ার জায়গা না থাকায় অসহায় হয়ে বেনাপোলে পড়ে ছিলেন তিনি। শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আশ্রয়দাতা গৃহবধূ আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী আবুল বাশার চিকিৎসা শেষে ভারত থেকে ফেরার সময় বেনাপোলে নোংরা, কাদা-মাটিমাখা ও কায়িক যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করতে থাকা শাহিদা ফকিরকে দেখতে পান। অত্যাচারিত ও বিপন্ন অবস্থায় দেখে মানবিক বিবেচনায় তাদের বাড়িতে এনে আশ্রয় দিয়েছেন। আরিফা বেগম আরও বলেন, মেয়েটা এমন অবস্থায় ছিল, দেখে যে কারও চোখে পানি আসবে। গায়ে কাদামাটি, জামাকাপড় ছেঁড়া, হাত-পা ফোলা অবস্থায় কান্নাকাটি করছিল। পুলিশে ধরলে যেমন অত্যাচার করে, তেমনই অবস্থা হয়েছিল। তার কাছে কোনো টাকা-পয়সাও ছিল না। তাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছিল।
সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন জানান, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আপাতত কোনো মেম্বার নেই। তাই তিনি স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন, ভারত থেকে এক নারী এসে ভাদিয়ালি গ্রামে আশ্রয়ে আছেন।
সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজখবর নিচ্ছেন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানান, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।
