মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনরা, প্রস্তুত হেলিকপ্টার অবতরণ মাঠ

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বাংলাদেশি সেনা সদস্য শামীম রেজার মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মরদেহ গ্রহণের জন্য কালুখালী উপজেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে হেলিকপ্টার অবতরণের মাঠ।

উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে নিহত সেনা সদস্যের মরদেহ কালুখালীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ঢাকার সেনানিবাসে আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতা বিলম্বিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে মরদেহ পৌঁছায়নি। মরদেহ পৌঁছানোর পর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গী গ্রামে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

নিহত সৈনিক শামীম রেজার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গী গ্রামে। তিনি আলমগীর ফকিরের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শামীম রেজা ছিলেন সবার বড়। দেড় বছর আগে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে তার কোনো সন্তান নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালুখালী উপজেলার সোনাপুর মোড় থেকে বোয়ালিয়া ইউনিয়নের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি মাঠ হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ বহনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। মাঠে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অবস্থান করছেন। প্রিয় মানুষটির শেষবারের মতো মুখ দেখার আশায় আশপাশের এলাকার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছেন।

জানা গেছে, শামীম রেজা ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিতে তিনি সুদানে যান। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই শহরে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন।