দুই যুগ আগের স্মৃতি ফিরিয়ে ১১ দিনে অ্যাশেজ জিতল অস্ট্রেলিয়া

অ্যাডিলেড টেস্টের পঞ্চম দিনে দারুণ রোমাঞ্চ ছড়াল। মাত্র ৪ উইকেট সম্বল করে ২২৮ রানে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড শেষ দিনে যে লড়াইটা করল, সেটা অ্যাশেজের দারুণ এক স্মৃতি হয়ে থাকবে। বড় হারের শঙ্কা জাগলেও ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত হেরেছে ৮২ রানে। এই জয়ে ১১ দিনে টানা তৃতীয় টেস্ট জিতে ৩-০ ব্যবধানে অ্যাশেজও ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজ ইতিহাসে এত কম সময়ে সিরিজ নিষ্পত্তির মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা এটি।

এবারের আগে ২০০২–০৩ মৌসুমে ১১ দিনের মধ্যে অ্যাশেজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই দশকের বেশি সময় পর স্টিভ ওয়াহর দলের রেকর্ডের পাশে ভাগ বসিয়েছে প্যাট কামিন্স বাহিনী। অ্যাডিলেডে অজিদের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছিল ৩৪৯ রানে। এতে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য টার্গেট দাঁড়ায় ৪৩৫ রানের। সেই রান তাড়ায় নেমে গতকাল চতুর্থ দিনে ২০৭ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। শেষদিনে তাই ইংল্যান্ডের বড় পরাজয় দেখছিলেন অনেকে।

তবে সপ্তম উইকেটে ৯১ রানের জুটি গড়ে সেই শঙ্কাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেন উইল জ্যাকস (৪৭) এবং জেমি স্মিথ (৬০)। পরের উইকেটে জ্যাকসের সঙ্গে ৮৭ বলে ৫২ রানের আরেকটি জুটি গড়েন ব্রাইডন কার্স (৩৯)। এই জুটিতেই ইংলিশদের টার্গেট একশর নিচে নেমে আসে। তবে মিচেল স্টার্কের বলে জ্যাকস আউট হতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ইংলিশদের লোয়ার অর্ডার। বেন স্টোকসের দল অল-আউট হয়ে যায় ৩৫২ রানে।

ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস বলেন, ‘এভাবে স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়া ভীষণ হতাশাজনক। সবাই কষ্ট পাচ্ছে। তবে দল এখানেই থামবে না। অস্ট্রেলিয়া ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করতে পেরেছে। জেমি স্মিথ ও উইল জ্যাকস ব্যাটিং করার সময় আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের আশা জেগেছিল। টস হেরে বোলিং করে প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে দেওয়ার পরও আমরা ব্যাট হাতে সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। তবু এই ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’

অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন, ‘অনুভূতিটা দারুণ। এটা মোটেও সহজ ছিল না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পেরেছি। এমন একটি দিনের জন্যই গত দুই মাস সবাই কঠিন পরিশ্রম করেছে। সবকিছু সার্থক। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে তাড়াহুড়ো করে কিছু হয় না। ধৈর্য আর লড়াইটাই আসল। অ্যাশেজ জিততে হলে শুধু একাদশ নয়, পুরো দলের প্রয়োজন হয়। প্রথম তিন টেস্টেই সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য দর্শকদের ধন্যবাদ।’