রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে সেভিয়াকে হারানোর ম্যাচে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এক ক্যালেন্ডার বছরে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ক্লাব কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কীর্তি। এই জয়ে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার ওপর চাপও বজায় রাখল মাদ্রিদ।
সেভিয়ার মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৭ মিনিট আগে এগিয়ে যায় রিয়াল। রদ্রিগোর ফ্রি কিক থেকে লুসিয়েন আগুমের ওপর লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল সেভিয়া, তবে দ্বিতীয়ার্ধে মার্কাও বেলিংহ্যামের ওপর বেপরোয়া ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে সফরকারীদের কাজ সহজ হয়ে যায়।
নিজের ২৭তম জন্মদিনে এমবাপ্পে পেনাল্টি থেকে গোল করে রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসান। রদ্রিগোকে বক্সে ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টি পায় রিয়াল। ৮৬ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোলরক্ষক ওডিসেয়াস ভ্লাখোদিমোসকে ভুল পথে পাঠান এমবাপ্পে। এই গোলেই বর্ষপঞ্জির এক বছরে রিয়ালের হয়ে তার গোলসংখ্যা হয় ৫৯। ২০১৩ সালে রোনালদো এক বছরে একইসংখ্যক গোল করেছিলেন। গোলের পর রোনালদোর বিখ্যাত ‘সিউ’ উদ্যাপন করে এমবাপ্পে জানান, তার আদর্শকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যাপন।
ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, জন্মদিনে রিয়াল মাদ্রিদের মতো স্বপ্নের ক্লাবের হয়ে খেলতে পারা এবং এমন রেকর্ড ছোঁয়া বিশেষ সম্মানের। বিশেষ করে রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়া তার জন্য গর্বের। কারণ পর্তুগিজ সুপারস্টার এমবাপ্পের শৈশবের আদর্শ এবং ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। পুরো ম্যাচ জুড়ে অবশ্য এমবাপ্পের সন্ধ্যাটা সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে তার কোনো শট ছিল না লক্ষ্যে।
বিরতির পর একবার গোলরক্ষকের শরীরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। সেভিয়ার আইজাক রোমেরো দুই দফা পাল্টা আক্রমণে সমতায় ফেরাতে পারতেন, কিন্তু দুইবারই অসাধারণ রক্ষণে থামান থিবো কোর্তোয়া। পরে বাঁ দিক থেকে কেটে ঢুকে নেওয়া শট পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, আরেকবার হেডে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে বল। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতেই আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।
রোনালদো ২০১৩ সালে ৫০ ম্যাচে ৫৯ গোল করেছিলেন। সঙ্গে ছিল ৭টি হ্যাটট্রিক ও ১৪ অ্যাসিস্ট। এমবাপ্পের ক্ষেত্রে একই গোলসংখ্যায় পৌঁছাতে লেগেছে আরও ৯টি ম্যাচ। তবে ২৭ বছর বয়সে দুজনের সামগ্রিক পরিসংখ্যান তুলনা করলে এমবাপ্পেই এগিয়ে। রোনালদো ২৭ বছরে পৌঁছানোর সময় ৫৩১ ম্যাচে করেছিলেন ২৭২ গোল। এমবাপ্পে একই বয়সে ৫৪৪ ম্যাচে করেছেন ৪১০ গোল।
ফিফার একাদশে রাফিনহা না থাকায় ক্ষুব্ধ ফ্লিক
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ড্র চেলসির