অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভূতগাছা গ্রামের রাকিব হোসেন স্বাধীন (২৩) নিহতের ঘটনায় গতকাল রবিবার উল্লাপাড়া মডেল থানায় আটজনের নাম উল্লখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তিন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উল্লাপাড়া উপজেলার ঘিয়ালা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ, তার জামাতা মধ্যবড়হর গ্রামের মোন্নাফ প্রামাণিক ও মোন্নাফের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন।
নিহত রাকিব উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভূতগাছা গ্রামের গোলাম কিবরিয়া ফিরোজের ছেলে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লাপাড়া থানার এসআই সুমন মাহমুদ বলেন, দালাল আবুল কালাম আজাদ কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবকে ইতালি পাঠানোর জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ২৫ লাখ টাকা নেন। এরপর চলতি বছর ২২ মে রাকিব বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তাকে প্রথমে ভারতের চেন্নাই, এরপর পর্যায়ক্রমে দুবাই, শ্রীলঙ্কা, মিসর ও সবশেষ লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। মাঝে রাকিব আটক হয়েছে এবং কারাগারে আছে এমন কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে দুই দফায় আরও ১০ লাখ নেন দালাল কালাম। এ অবস্থায় গত ১২ নভেম্বর ১২২ জনকে একটি ট্রলারে করে লিবিয়ার উপকূল থেকে সাগরপথে ট্রলারে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করে দালালরা। স্বজনদের দাবি, কিছুদূর যাওয়ার পর ট্রলারটি ভূমধ্যসাগরে আংশিক ডুবে গেলে ট্রলারে থাকা রাকিবসহ ৯৭ জনকে মারধরের পর হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে দালালরা। বিষয়টি জানার পর স্বজনরা শনিবার বিকেলে দালাল কালামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এরপর রাতেই স্বাধীনের বাবা বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ ও অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।