লিবিয়া থেকে যাত্রা, গ্রিসে উদ্ধার অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি

গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলের গাভদোস দ্বীপসংলগ্ন সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৩৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। স্থানীয় কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃতদের ৪৩৭ জনই বাংলাদেশের নাগরিক।

গত শুক্রবার ভোরে আগিয়া গ্যালিনির দক্ষিণের সমুদ্রপথে একটি মাছ ধরার নৌকা থেকে এই অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের রেথিম্নো শহরের কিত্রেনোসি নামের একটি ভবনে নেওয়া হয়। সেখানে হেলেনিক কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে অভিবাসীদের নিবন্ধন ও পরিচয় শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন নারী ও দুইটি শিশু রয়েছে। বাকি সবাই পুরুষ। প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এখন মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং অভিবাসীদের দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

রেথিম্নো পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, এত বড় সংখ্যক অভিবাসীকে সামাল দেওয়ার মতো অবকাঠামো শহরটিতে নেই। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি সামলাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সোমবার ৩০০ জন অভিবাসীকে অন্য স্থানে পাঠানো হবে এবং বাকি ব্যক্তিদের আগামী সপ্তাহে স্থানান্তর করা হবে।

জাতীয়তা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশিদের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাকিস্তান, মিসর, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের নাগরিকও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, মানবপাচারকারীদের সহায়তায় তারা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে অন্তত ৩৬ ঘণ্টার ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা করে গ্রিসের উপকূলে পৌঁছান।

এ বিষয়ে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য দূতাবাসের কাছে পৌঁছায়নি।