সুদানের উত্তর দারফুরের ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলা, নিহত ১০

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে উত্তর দারফুরে আরেকটি প্রাণঘাতী হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একটি ব্যস্ত বাজারে চালানো ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি বড় ধরনের সম্পদহানি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

উত্তর দারফুর ইমার্জেন্সি রুমস কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত মালহা শহরের আল-হাররা বাজারে এই হামলা ঘটে। হামলার পর বাজারের একাধিক দোকানে আগুন ধরে যায়, যার ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে কারা এই ড্রোন হামলার পেছনে জড়িত, সে বিষয়ে সংস্থাটি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত সুদানের সেনাবাহিনী কিংবা প্যারামিলিটারি বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)–এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষের মাত্রা আরও বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে।

এর মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলীয় দক্ষিণ কর্দোফান রাজ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গতকাল রবিবার (২১ ডিসেম্বর) নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো অবরুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষকবলিত কাদুগলি শহর থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। গত সপ্তাহে সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকা ত্যাগ করার সময় কাদুগলিতে একটি ড্রোন হামলায় আটজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংকট বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকটের রূপ নিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতের নতুন কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে দক্ষিণ কর্দোফান। কাদুগলি ও নিকটবর্তী ডিলিং শহর বর্তমানে আরএসএফের অবরোধে রয়েছে। গত সপ্তাহে ব্রনো এলাকা দখলে নেওয়ার মাধ্যমে আরএসএফ কাদুগলি-ডিলিং সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা লাইনের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।