অসুস্থ সময়ে ফর্টিস এক সুখী পরিবার

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৯ এএম

সারা দেশের মতো অস্থির একটা সময় কাটছে ঘরোয়া ফুটবলেও। চরম অর্থাভাবে ভুগছে ক্লাবগুলো। পারিশ্রমিক ঠিকঠাক মিলছে না বলে ফুটবলারদের স্বস্তিটা উবে গেছে। বড় হোক কিংবা মাঝারি সারির, বেতন নিয়ে ভুগতে হচ্ছে বেশিরভাগ ক্লাবের ফুটবলারদের। ব্যতিক্রম কেবল ফর্টিস ফুটবল ক্লাব। টানা চার মৌসুম তারা শীর্ষ লিগে খেলছে। হয়তো অনেক বড় অঙ্ক ক্লাব কর্তারা দিতে পারছেন না ফুটবলারদের। তবে চুক্তির অঙ্ক যেটাই হোক ঠিকঠাক পৌঁছে দিচ্ছেন ফুটবলারদের কাছে। তাতেই অসুস্থ সময়ে ফর্টিস যেন এক সুখী পরিবার। যার প্রভাবটা মাঠের খেলায় স্পষ্ট। চলতি বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সপ্তম রাউন্ড শেষে তারা দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষের বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে সংগ্রহ মাত্র ২ পয়েন্ট কম।

কেবল পয়েন্টের হিসাব দিয়ে বোঝানো যাবে না চলতি লিগে কতটা ধারাবাহিক ফর্টিস। শুরুটা করেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে। প্রায় মাসখানেকের বিরতির পর হওয়া দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের ২-১ গোলে হারতে হয় বসুন্ধরা কিংসের কাছে। এরপর থেকে আর পেছন তাকাতে হয়নি ফর্টিসকে। টানা পাঁচ ম্যাচে তারা কেবল অপরাজিতই নয়, কোনো গোলও হজম করেনি। পুলিশের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর আরামবাগের বিপক্ষে ১-০ জয়। এরপর আবাহনীকে গোলশূন্য রুখে দিয়ে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জেতে ১-০ ব্যবধানে। আর সর্বশেষ ফকিরেরপুলকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে বসেছে লিগ টেবিলের দুইয়ে। ফেডারেশন কাপের দুই ম্যাচেও তারা অপরাজিত। মোহামেডানের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর আরামবাগকে ৪-০ উড়িয়ে দলটি দেখছে বড় কিছুর স্বপ্ন।

ফর্টিসের ধারাবাহিক ভালো খেলার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে কথা হয় দীর্ঘদিনের কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার, সভাপতি শাহীন আহমেদ ও ম্যানেজার রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনজনই মোটা দাগে প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এনেছেন নিয়মিত পারিশ্রমিকের বিষয়টি। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো শীর্ষ লিগে খেলছে ফর্টিস। চার মৌসুমই দলটির ডাগআউটের দায়িত্বে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মাসুদ পারভেজ কায়সার। আগের তিন মৌসুমে সপ্তম, পঞ্চম ও ষষ্ঠ হওয়ার পর এবার কায়সারের দৃষ্টি সেরা দুইয়ে লিগ শেষ করা, ‘এবার প্রতিটি দলেরই আপ্স অ্যান্ড ডাউন চলছে। বসুন্ধরা ও ফর্টিসের এটা কম হয়েছে। তবে লিগের এখনো অনেকগুলো রাউন্ড বাকি। তাই আগেভাগে বড় কিছু কথা বলব না। এখন পর্যন্ত ফর্টিস যে ফুটবলটা খেলছে তার জন্য আমি ক্লাব কর্র্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ দেব, কারণ তারা খেলোয়াড়দের প্রাপ্যটা ঠিকঠাক বুঝিয়ে দিচ্ছে। প্রথমপর্বে আমাদের দুটি ম্যাচ আছে (ব্রাদার্স ও পিডব্লিউডির সঙ্গে)। এই দুই ম্যাচ থেকে লক্ষ্য পূর্ণ ৬ পয়েন্ট পাওয়া।’

দলটি এ বছর শ্রীলঙ্কা থেকে উড়িয়ে এনেছে অভিজ্ঞ কিপার সুজন পেরেরাকে। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক নিজের জাত চেনাচ্ছেন প্রতি ম্যাচেই। লিগের সাত ম্যাচের ছয়টিই তিনি ক্লিনশিট রেখেছেন। ফেডারেশন কাপসহ ৯ ম্যাচে মাত্র তিন গোল হজম করেছেন। লিগে ফর্টিসই সবচেয়ে কম গোল (মাত্র ২টি) হজম করেছে। এই কৃতিত্ব অবশ্য কায়সার একা সুজনকে দিতে চান না, ‘সুজন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। অনেকগুলো ম্যাচে অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করেছেন। তবে দলের ডিফেন্ডাররা সহায়তা না করলে তার কাজটা আরও কঠিন হতো। আমি মনে করি আমরা একটা দল হিসেবে ভালো খেলছি।’

ক্লাব সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ‘চার মৌসুমে কোনো খেলোয়াড় অন্তত বেতন নিয়ে আমাদের দিকে আঙুল তুলতে পারবে না। আমরা প্রতি মাসেই বেতন দেওয়াটা রেওয়াজে পরিণত করেছি। যার ফলে অন্য দলগুলোর মতো বেতন নিয়ে আমাদের ফুটবলারদের ভাবতে হচ্ছে না। মাঠে শতভাগ মনোযোগ দিতে পারছে। আমরা যখন প্রথম দল গড়ি, তখন থেকেই একটা চিন্তাই করেছি আমাদের ঝরে গেলে চলবে না, টিকে থাকতে হবে।’

ক্লাব ম্যানেজার রাশেদুল ইসলামের দায়িত্ব ফুটবলারদের ভালো-মন্দ সরাসরি দেখভাল করা। তিনিও কারণ হিসেবে সামনে আনলেন আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি, ‘আমরা ফুটবলারদের একটা কথাই বলি, ফর্টিস হয়তো বড় ক্লাব নয়, তবে ফর্টিস ভালো ক্লাব। ভালো এ কারণেই, আমরা চেষ্টা করি শতভাগ পেশাদারিত্বের মধ্যে থাকতে। তাতে ফুটবলারদের অন্তত বেতন নিয়ে ভাবতে হয় না। তাছাড়া আমাদের দলে খুব বেশি পরিবর্তন আনা হয় না। বরং প্রয়োজনে সংস্কার করা হয়। এর ফলে এখানে যারা খেলছেন তাদের বাড়তি একটা আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।’

লিগের ফয়সালা হতে এখনো অনেক বাকি। তবে ফর্টিস যেভাবে এগিয়ে চলছে তাতে এবার বড় কিছুর আশা তারা করতেই পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত