নিউজিল্যান্ড সফরটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল নেতিবাচক কারণে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি পরিসংখ্যানেও এমন এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালেন তিনি, যেখানে আগে থেকেই বাংলাদেশের দুই সাবেক অধিনায়কের নাম জড়িয়ে আছে—একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে তৃতীয় টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ৭ রান করার পর ২০২৪ সাল শেষ করেছেন চেজ। পুরো বছরে ৮টি টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩.৮১। অধিনায়ক হিসেবে একটি ক্যালেন্ডার বছরে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন গড়। এই তালিকায় তাঁর নিচে আছেন কেবল বাংলাদেশের খালেদ মাহমুদ সুজন, যিনি ২০০৩ সালে অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে গড় করেছিলেন ১১.৮২।
এই দুর্বল পারফরম্যান্সের পথে চেজ ছাড়িয়ে গেছেন আরও কয়েকজন পরিচিত নামকে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন (২০০০ সালে গড় ১৫.০০) এবং বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল (২০০৮ সালে গড় ১৬.০০)—দুজনেরই রেকর্ড এবার পেছনে পড়ে গেছে ক্যারিবীয় অধিনায়কের কারণে।
পুরো সিরিজজুড়েই নিউজিল্যান্ডের দাপটের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় টেস্টে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে ২–০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয়। ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরিভিত্তিক ব্যাটিং ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ক্যারিবীয়রা হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টার বাইরে আর কিছুই করতে পারেনি।
চেজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। তিন টেস্টে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৪২ রান, গড় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭। ছয় বা তার বেশি বার আউট হওয়া অধিনায়কদের মধ্যে একটি টেস্ট সিরিজে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন গড়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
শেষ ইনিংসেও হতাশাই সঙ্গী হয় তাঁর। স্লিপে পাঁচ রানে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ম্যাচ শেষে নিজের ব্যর্থতা অকপটে স্বীকার করে চেজ বলেন, “এই সিরিজটা আমার জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। আমার মান অনুযায়ী পারফরম্যান্স একেবারেই নিচে ছিল। মাঠে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারিনি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ড্রেসিংরুমে কথা বলা, দলকে উৎসাহ দেওয়া কিংবা অনুপ্রাণিত করার জায়গায় সমস্যা ছিল না। কিন্তু মাঠে নেমে দলের জন্য পারফর্ম করতে না পারায় আমি যেমন নিজেকে হতাশ করেছি, তেমনি দলকেও হতাশ করেছি।”