ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তত উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। আমরা কনফিডেন্ট আছি। আমরা হাল ছাড়িনি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডাক বিভাগের মেইল সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান একসঙ্গে জাতির উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। আমরা সবাই এক। ইলেকশনের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই একটি সুন্দর নির্বাচন চাই। নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনসবাই একসঙ্গে কাজ করছে। সবাই মিলে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারব।
ডাক বিভাগের মেইল সেন্টারের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, আপনারা স্বচক্ষে দেখেছেন এখানে বিশাল কর্মযোগ্য চলছে। অত্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই করা হচ্ছে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করেই আমরা এই ব্যবস্থাটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। আশা করছি, একদম সুন্দরভাবে ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত হবে। ইলেক্টোরাল প্রসেসের ইন্টেগ্রিটি নিশ্চিত করতেই আমরা এই কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।
সিইসি আরও বলেন, আমাদের পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের সহায়তায় এবং ইন্টারন্যাশনাল পোস্টাল ইউনিয়নের সহায়তায় এই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের ভেতরে প্রায় লক্ষাধিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের হাতে এখনো তিন দিন সময় আছে। এ ক্ষেত্রে আমি সাংবাদিক ভাইদের বিশেষভাবে অনুরোধ করব আপনারা একটু প্রচার করবেন। আরও তিন দিন সময় আছে, দেশের ভেতরে যারা রয়েছেন তারা যেন সবাই রেজিস্ট্রেশনটি সম্পন্ন করেন।
তিনি বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একটি মিটিং করেছি। সেখানে আমরা তাদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টকে অনুরোধ করেছি, যেন তারা বিষয়টি ডিসেমিনেট করেন এবং সবাই ভোটের আওতায় আসেন। সবাই যেন রেজিস্ট্রেশন করেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে দেশের ভেতরে এই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে।
পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা হবে বিশ্বসেরা মডেল উল্লেখ করে সিইসি বলেন, এই প্রথমবারের মতো আমরা যে উদ্যোগটি নিয়েছি, আমরা আশা করছি এটি সারা বিশ্বের জন্য একটি মডেল হয়ে থাকবে। এই হাইব্রিড মডেল, যেখানে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে, কিন্তু ম্যানুয়ালি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট সংগ্রহ করা হবে। এটি একটি অনন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।
নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, আমরা জানি, আপনারা হয়তো কিছু দোষ-ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করবেন। কিছু ত্রুটি চোখে পড়তে পারে। আমরা পারফেক্ট কোনো সিস্টেম চালু করেছি, এ দাবি করছি না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, বছর যত যাবে, আমাদের এই সিস্টেম আরও উন্নত হবে, আরও ডেভেলপ করবে। আগামী নির্বাচনে এটি আরও সুন্দর, আরও উন্নত এবং আরও বিস্তৃত কাভারেজ নিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, প্রথমবার হিসেবে আমরা ব্যক্তিগতভাবে মোটামুটি সন্তুষ্ট। আমরা যে টার্গেট করেছিলাম, যে নিয়ত ও ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। তার সঙ্গে আমরা অনেকটাই মিল পেয়েছি। আগামী তিন দিনের মধ্যে যদি আরও রেজিস্ট্রেশন হয়, তাহলে আমাদের সন্তুষ্টি আরও বাড়বে। রেজিস্ট্রেশন বাড়ানোর জন্য আপনাদের ভূমিকা আমরা চাই। আপনারা একটু প্রচার-প্রচারণা করবেন, যাতে সবাই রেজিস্ট্রেশনটি সম্পন্ন করে।
চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ সঠিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ, দেশি-বিদেশি আইসিটি কোম্পানি, আইএফএস, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্টের সহায়তায় আমরা এই সমাধানটি দাঁড় করিয়েছি। কোনো অসুবিধা নেই। যত চ্যালেঞ্জ ছিল, আমরা সেগুলো একে একে এড্রেস করে এগিয়ে এসেছি। বাকিটাও আপনাদের সহযোগিতায় সম্পন্ন করতে পারব।