কুয়েতে চৌদ্দগ্রামের যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, পরিবারের দাবি হত্যা

কুয়েতে মো. শাহজাহান রনি (২৫) নামে কুমিল্লার এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নূরুল আমিনের মাধ্যমে রনির মৃত্যুর সংবাদটি জানতে পারে পরিবারের সদস্যরা। নিহত রনি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার কমলপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদ ও নাছিমা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে। তবে পরিবারের দাবি, তাদের একমাত্র সন্তানকে তার বাঙালি মালিক মীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। রনির আকস্মিক এ মৃত্যুর সংবাদে নিহতের পরিবারসহ সমগ্র এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৭ মাস আগে পাশের বাড়ির বাসিন্দা মীর হোসেনের মাধ্যমে কুয়েতে যান শাহজাহান রনি। সেখানে কুয়েতের সাবা আল-নাসের এলাকায় মীর হোসেনের একটি বাকালা (গ্রোসারি) দোকানে মাসিক বেতনে কাজ করতেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রনির সঙ্গে মীর হোসেনের বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশে থাকা দুই পরিবারের মধ্যেও প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

রনির পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ ডিসেম্বরের পর থেকে রনির সঙ্গে তাদের কারও কোনো যোগাযোগ ছিল না। দীর্ঘ ১৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত রবিবার প্রশাসনের মাধ্যমে তারা রনির মৃত্যুর সংবাদ পান। এ সময় অভিযুক্ত মীর হোসেন নানাভাবে রনির পরিবারকে বিভ্রান্ত করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তিনি রনির পরিবারকে জানিয়েছিলেন, রনি কুয়েতের জেলে আছে এবং শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন।

নিহত রনির বাবা তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, ‘২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় করে মীর হোসেনের মাধ্যমে তার একমাত্র ছেলেকে কুয়েতে পাঠানো হয়। সেখানে চাকরির সময় বিভিন্ন অজুহাতে মীর হোসেন রনির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো।’

রনির মা নাছিমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার আগেই বলেছিল তাকে মেরে ফেলা হবে। এটা নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে কুয়েতে অবস্থানরত অভিযুক্ত মীর হোসেন বলেন, ‘আমি আড়াই বছর আগে রনিকে কুয়েতে এনে আমার দোকানে চাকরি দিয়েছিলাম। গত ৪ ডিসেম্বর সে আমাকে কিছু না জানিয়ে অন্যত্র চলে যায়। পরে পরিবারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর শুনি। আমি কখনো তাকে নির্যাতন করিনি, হত্যা তো দূরের কথা। রনির পরিবারের অভিযোগ সত্য নয়। দূতাবাসের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নূরুল আমিন বলেন, ‘প্রবাসী কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব আমার সরকারি নম্বরে রনির মৃত্যু-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে পরিবারকে জানাতে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পরিবারের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’