নিম্নমানের সামগ্রীতে সড়ক নির্মাণ, প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়নের সাইলকোনা এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত শনিবার এলাকাবাসী একত্র হয়ে নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন। এলাকাবাসীর দাবি, কাজ শুরুর পর থেকেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে রাস্তার গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, রাস্তা পাকাকরণে নির্ধারিত পরিমাণ ইট, বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হয়নি। বরং রাতের আঁধারে ৩ নম্বর ইট ও বালুর পরিবর্তে মাটি ফেলে সড়কের বেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করেই রোলার চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

এলাকাবাসী আরও জানান, কাজটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর তদারকি ছিল না। একাধিকবার অনিয়মের বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন এলাকাবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কাজ করতে না দিলে কাজ বন্ধই থাকবে। আর এলাকাবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য, কাজ হলে ভালো কাজই হতে হবে।

গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে রাস্তার বিভিন্ন অংশ কোদাল দিয়ে গর্ত করে দেখিয়ে দিচ্ছেন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ। ইট তুললেই বেরিয়ে আসছে নরম মাটি। বেজমেন্টে বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে ধুলামাটি। রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা রয়েছে নিম্নমানের মাটিযুক্ত ইটের খোয়া।

প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, জিওবিএম-এর আওত্তায় উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়নের সাইলকোনা এলাকায় ৯০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ পায় এম এইচ কনস্ট্রাকশন ফার্মের স্বত্বাধিকারী মাসুদ হাসান। এ কাজের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে সাইলকোনা গ্রাম পুলিশ হাসান আলী বলেন, ‘এ রাস্তায় যাবতীয় যা কিছু ব্যবহার করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের। যে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে তাতে কোনো মানই নেই।’

এ বিষয়ে এম এইচ কনস্ট্রাকশন ফার্মের স্বত্বাধিকারী মাসুদ হাসান বলেন, ‘এটা মূলত জিওবিএম-এর আওতায় রাস্তা রিপেয়ারিংয়ের কাজ। এখানে পুরাতন ইট, খোয়া ব্যবহৃত হবে, যা এলাকার লোকজন বুঝতে পারেননি। তাই তারা এ কাজ করেছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এস এম লেলিন বলেন, ‘কাজের মান নিয়ে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন। ইঞ্জিনিয়ারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি এসে বিষয়টি দেখবেন।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের কার্যসহকারী ও ওই রাস্তার কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মাসুদ রানা বলেন, এটি রাস্তা রিপেয়ারিংয়ের কাজ। তাই পুরনো সামগ্রীও ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তায় বিগত দিনে যে কাজগুলো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ তিন নম্বর খোয়া, ইট ও মাটি ব্যবহার করেই করা হয়েছিল। তবে নতুন ইট-খোয়াগুলো ভালো মানের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী অনুপ কুমার ঘোষ জানান, রাস্তায় খোয়া ভেঙে সবেমাত্র দেওয়া হয়েছে। পরে নতুন খোয়া দেওয়া হবে। এলাকাবাসী বিষয়টি বুঝতে পারেনি। তবে তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন। ঠিকাদারকে কাজের মান ভালো করারও নির্দেশ দেবেন।