নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত ও অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের ছেরাং বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন, জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদু মাঝির ছেলে শামসুদ্দিন ওরফে কোপা শামছু, তার ছেলে সিহাব, একই উপজেলার কাশেম এবং আলাউদ্দিন মাঝি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার মূল ভূখণ্ডের পশ্চিম পাশে মেঘনার কোলে জেগে উঠেছে জাগলার চর। এই চরের জমি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি।
এ সুযোগে সরকার পতনের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা শামছু বাহিনী ওই চর দখল করে প্রতি দাগ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে বেশ কিছু জমি বিক্রি করে।
পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী ওই জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন বাহিনী আরও বেশি দামে কিছু জমি বিক্রি করে। এর ফলে উভয় পক্ষ আলাদাভাবে চরের জমি বিক্রির চেষ্টা চালাতে থাকে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার সকালে চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা শামছু ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে আলাউদ্দিনসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপর চারজনের মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। পরে পুলিশ গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে।
বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই চর এলাকায় বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের সময় বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাহিনীগুলো এখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন বলেন, চর নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বে ফরিদ কমান্ডার, শামছু বাহিনী এবং আলাউদ্দিন বাহিনী মুখোমুখি হয়ে গোলাগুলিতে জড়ায়। এতে শামছু বাহিনীর প্রধান ও আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন নিহত হয়েছেন।
তবে ফরিদ ডাকাত তার বাহিনী নিয়ে পালিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই চর এলাকায় বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।
বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাহিনীগুলো এখান থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের অস্ত্রসহ নানা ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে মুসফিক বাহিনী।
হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আলাউদ্দিনের মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রাখা আছে।
অপর চারটি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।