পিস্তল তাক করা যুবকের পরিচয় মিলেছে

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে পিস্তল তাক করে সাবেক ছাত্রদল নেতার রোষানলে পড়া যুবকের পরিচয় মিলেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দুই মাস আগে, তবে ভিডিওটি সম্প্রতি ভাইরাল হওয়ার পর যুবকটি অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপন করেছে। তার নাম মোহাম্মদ স্বপন।

তিনি উপজেলার ছাগাইতকান্দি গ্রামের ভৈরব চৌধুরী বাজার সংলগ্ন আনার আহমদ মহুরী বাড়ির আবুল কালামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বপন পেশায় সিএনজি চালক এবং শ্রমিক দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুসারে, স্বপনের নিজ ফেসবুক আইডির টাইমলাইন ঘেঁটে দেখা গেছে যে, তিনি শ্রমিক দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতেন।

ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময়, স্বপন দাবি করেন যে, ঘটনার দিন তিনি ফেনী থেকে সোনাগাজী যাওয়ার পথে লালপোলে সিএনজিতে ওঠেন। সেখানে বগাদানা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ছোটন ও তার সঙ্গে একটি নারী ওঠেন। গুনক গ্রামে গিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর, ছোটন তাকে গালমন্দ করে ভাড়া না দেওয়ার হুমকি দেয়।

এরপর, ছোটন ও তার ৪-৫ জন সহযোগী এসে স্বপনকে মারধর করে এবং মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। ভিডিও তৈরি করে তাকে হুমকি দেওয়া হয় যে, ঘটনাটি প্রকাশ করলে ভিডিও ভাইরাল করা হবে।

স্বপন অভিযোগ করেন যে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপন করে আছেন এবং ওই নারীকে তিনি চিনেন না বলে দাবি করেন। মাদক ব্যবসা নিয়ে ঘটনার সুত্রপাত বিষয়ে প্রশ্ন করার পর, তিনি কোনো উত্তর দেননি এবং মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

গুনক গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি স্বপনের ছবি দেখালে তারা তাকে চিনতে পারেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, স্বপনকে বহুবার ছোটনের সাথে এলাকায় দেখেছেন। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ছোটনও আত্মগোপনে চলে গেছে, তাই স্বপনের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ছাগাইতকান্দি গ্রাম ও ভৈরব চৌধুরী বাজার এলাকার একাধিক ব্যক্তি স্বপনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ করেছেন। নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা জানিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, পুরো এলাকা এখন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, এবং তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না।

উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মাসুদ বলেন, ‘স্বপন আমাদের সংগঠনের সাথে জড়িত। তবে তার সাথে কী হয়েছে তা আমি জানি না, এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত কিনা তাও আমি জানি না। আমি তাকে সিএনজি চালক হিসেবে চিনি।’

এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, তবে এখনো কোনও পক্ষের বক্তব্যের সম্পূর্ণ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।