আগামীকাল বড় দিন। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। জেলার সিরাজদীখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের শুলপুর সাধু যোশেফ গির্জা সেজেছে দৃষ্টিনন্দন আর ঝলমলে আলোয়। সাজানো হয়েছে গোশালা নির্মাণ আর ক্রিসমান ট্রিতে। একই সঙ্গে শুলপুর গ্রামের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বসত বাড়ি গুলোতে আলোকসজ্জায় সেজেছে।
কাল ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হবে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শুলপুর সাধু যোশেফ গির্জা দৃষ্টিনন্দন ঝলমলে আলোকসজ্জায় সজ্জিত। গির্জার ভেতরে কুঁড়ে ঘরের আদলে মাতা মেরীর কোলে যীশু খ্রিষ্টের প্রতিছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রার্থনায় আগত পূণ্যার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে। সব মিলিয়ে জেলার একমাত্র খ্রিষ্টান পল্লীতে চলছে উৎসব।
জানা যায়, উপজেলার ৩ টি গ্রামের প্রায় ৩৮৫ টি পরিবার বড়দিন উদযাপন করছে। এ দিনকে কেন্দ্র করে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অনেক বিয়ের আয়োজন করা হয়। ফলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিও থাকে বেশি। নির্বিঘ্নে ধর্মীয় এ উৎসব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা জানান, যীশু খ্রিষ্ট একটি গোশালায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই স্মরণেই প্রতি বছর তারা গোশালা তৈরি করে বড়দিন উদযাপন করেন। বড়দিনকে আরও আনন্দঘন করতে গ্রামের বাড়িতে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করছেন তারা।
কেয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নয়ন রোজারিও জানান, বড়দিন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুলপুর সাধু যোশেফ গির্জার ফাদার কমল কোড়াইয়া বলেন, বেথেলহেমের এক গোশালায় মাতা মেরীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিষ্ট। সেই স্মরণে সারাবিশ্বের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা মহাসমারোহে পালন করেন শুভ বড়দিন। এ উপলক্ষে খ্রিষ্টানদের বাড়িঘর ও গির্জা নানা রঙের সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্বজনরা গ্রামে ফিরছেন আনন্দ ভাগাভাগি করতে। প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে যেন আনন্দ, শান্তি ও ভালোবাসা বিরাজ করে এ কামনাই করা হয়।
সিরাজদীখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদিন আগ থেকেই সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
এ প্রসঙ্গে সিরাজদীখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের শুভে”ছা জানিয়ে বলেন, বড়দিন যেন যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপিত হয়, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।