টাকা দিতে না পারায় বিপিএল শুরুর আগের দিন চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা ছেড়ে দিয়েছিল ট্রায়াংগুলার সার্ভিসেস। বিসিবি অ্যাডপ্ট করেছিল তাদের। সেই চট্টগ্রাম মাঠে নেমেই দেখিয়ে দিল মালিকানা নিয়ে সমস্যা তাদের ক্রিকেটকে নাড়াতে পারেনি। মির্জা তাহির বেগের দায়িত্বশীল ইনিংস ও অধিনায়ক শেখ মেহেদীর কার্যকর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আলোচিত নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে বড় ব্যবধানে হারালো তারা।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম পায় ১৭৪ রানের সংগ্রহ। টি-টোয়েন্টির প্রচলিত গতিতে ব্যাট করতে না পারলেও ইনিংসের ভার একাই কাঁধে নেন মির্জা তাহির। ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৯ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন এই পাকিস্তানি ব্যাটার। একপ্রান্ত আগলে রেখে বাকিদের জন্য ভিত গড়ে দেন তিনি।
চট্টগ্রামের শুরুটা খুব ভালো হয়নি। ওপেনার নাইম শেখ ১১ রান করে ফিরলে দ্রুত বিদায় নেন মাহফিজুল ইসলাম রবিনও (১৬)। তবে এরপর তৃতীয় উইকেটে মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে তাহিরের ৫৮ রানের জুটি দলকে চাপমুক্ত করে। জয় ১৭ রান করে আউট হলেও শেষ দিকে অধিনায়ক শেখ মেহেদী ১৩ বলে ২৬ রানের ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংস খেলেন। তাহিরের বিদায় আসে ইনিংসের শেষ দিকে। নোয়াখালীর হয়ে সাব্বির দুটি এবং হাসান মাহমুদ, রানা, জহির খান ও সাদাকাত একটি করে উইকেট নেন।
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নোয়াখালী শুরুতে কিছুটা আশাব্যঞ্জক ছিল। সাদাকাত ও হাবিবুর রহমান সোহান প্রথম দুই ওভারে বিনা উইকেটে ১৯ রান যোগ করেন। তবে তৃতীয় ওভারে সোহানকে ফিরিয়ে ছন্দ ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। ৭ বলে ১৫ রান করা এই ব্যাটার এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন।
এরপর দ্রুত উইকেট পড়তে থাকে নোয়াখালীর। সাব্বির হোসেন স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মেহেদীর বলে আউট হন। অধিনায়ক সৈকত আলী বোল্ড হন তানভির ইসলামের বলে। জাকের আলীও সুবিধা করতে পারেননি, ১২ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় নোয়াখালী।
মাঝখানে সাদাকাত ও হায়দার আলী কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে বড় শট খেলতে গিয়ে ২৮ বলে ৩৮ রান করা সাদাকাত আউট হন। হায়দারও ২৪ বলে ২৮ রান করে তানভিরের শিকার হন। এরপর আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানেই গুটিয়ে যায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
চট্টগ্রামের হয়ে তানভির ইসলাম তিনটি উইকেট নেন। শেখ মেহেদী, শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ পান দুটি করে উইকেট। ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে সহজ জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস, আর বড় ব্যবধানে হার দিয়ে বিপিএল শুরু হয় নোয়াখালীর।