‘বিচার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ অবরোধ’

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী জনতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে এসে অবস্থান নেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নেন। এ সময় শাহবাগের একাংশের যান-চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

গতকাল সকালে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শহিদ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা ও খুনিদের বিচারের দাবিতে বাদ জুমা দেশব্যাপী দোয়া-মোনাজাত ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান জানানো হয়।

বিকেলে অবরোধ কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথেই থাকবেন। এই অবরোধ চলছে, এই অবরোধ চলবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা যাবেন না।

রাতে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা সারা রাত এখানে বসে থাকব। আমরা কম্বল আনতে পাঠিয়েছি। হাদি ভাই জীবিত থাকতে এ কম্বল কিনেছিলেন বস্ত্রহীনদের জন্য। কিন্তু তিনি সেই কম্বল দিয়ে যেতে পারেননি। আমাদের সুস্থ থাকতে হবে। কর্মসূচি শেষ হলে সেই কম্বল আমরা বস্ত্রহীনদের কাছে পৌঁছে দেব।’

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জানান, সরকারের উপদেষ্টারা জনগণের সামনে এসে না দাঁড়ানো পর্যন্ত তারা শাহবাগ ছাড়বেন না। উপদেষ্টাদের শুধু এলেই চলবে না, হত্যার পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী ও তাদের ভারতে পালাতে সহায়তাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে অবস্থান চালিয়ে যাবেন।

বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, হাদির মৃত্যুর পর খুনিদের অবস্থান, পলায়ন বা দেশে থাকা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে স্পষ্ট কোনো চিত্র নেই। গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বও আমাদের পালন করতে হচ্ছে। এমন একটা সরকারকে বাংলাদেশের মানুষের টাকায় বসিয়ে রেখে লাভ কী?

আরও বলেন, খুনি যত বড় শক্তিই হোক, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আপনাদের প্রতি দায়িত্ব দিচ্ছি, যদি কেউ বিশৃঙ্খলা করতে আসে, তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। জুমা আরও বলেন, শাহবাগ সাক্ষী থাকুক-যতক্ষণ পর্যন্ত শহিদ শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের বিচার না হবে, আমরা রাজপথ ছাড়ব না। ইনসাফ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব। শহীদ উসমান হাদি হত্যার বিচার এই বাংলার জমিনেই হবে। এই বিচার শাহবাগ থেকেই আদায় হবে।