গঠনের এক মাস না পেরোতেই ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক মোর্চা ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটে’। জোটের প্রধান দুই শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এবি পার্টির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সঙ্গে তলে তলে নির্বাচনী সমঝোতা করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জোটের শরিক রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শরিকরা জোটের নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে বড় কোনো দলের সঙ্গে আঁতাত করলে এ জোটের অস্তিত্ব থাকবে না।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর পল্টনে প্ল্যাটফর্মটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম। এ সময় তিনি বলেন, আমরা একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এই জোট গঠন করেছিলাম, যাতে দেশের মানুষের সামনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বাইরে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প থাকে।
হাসনাত কাইয়ুম বলেন, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের না জানিয়েই জোটের কোনো কোনো শরিক বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতার চেষ্টা করছে। এ খবর যদি সত্য হয়, তবে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট তার প্রাসঙ্গিকতা হারাবে। জোটের অভ্যন্তরে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, জোটের মুখপাত্র এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানাননি। অথচ সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদে আমরা জানতে পারছি তারা জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করতে যাচ্ছে। এটি স্পষ্টতই রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অবস্থান পরিষ্কার করে হাসনাত কাইয়ুম আরও বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীকে একটি অগণতান্ত্রিক ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী শক্তি মনে করি। অন্যদিকে বিএনপি সংস্কার পরিপন্থী হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। ফলে এই দুই শক্তির কোনোটির সঙ্গেই রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন কোনো ধরনের আসন ভাগাভাগি বা আঁতাতে যাবে না। যারা যাবে, তারা নিজেদের দায়ে যাবে, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এর অংশীদার হবে না।
জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক শিষ্টাচার মেনে এখনো বলছি, তারা আমাদের জোটসঙ্গী। কিন্তু তারা ‘যদি’ সত্যিই অন্য কোথাও নেগোসিয়েশন করে থাকে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যান্ডশেক করে আমরা এই জোটের সমাপ্তি ঘোষণা করব।
হাসনাত কাইয়ুম বলেন, আমরা গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম একটি স্বাধীন ধারা তৈরির জন্য। আমাদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য ভোটের একটি তৃতীয় অপশন তৈরি করা। কিন্তু জোটের কিছু শরিকের কর্মকাণ্ডে এখন সেই উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্দোলনের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা ছোট দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বড় দলগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’কে পূর্ণাঙ্গ ভাঙনের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।