ধানের শীষেই ভোট করবেন গণ অধিকারের রাশেদ!

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপিতে যোগদান করতে যাচ্ছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। তবে তিনি কবে বিএনপিতে যোগ দেবেন তা জানা যায়নি।

গণ অধিকারের একটি সূত্র বলেছে, বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের মধ্যে যাদেরকে আসন ছাড় দিয়েছে তাদের অনেককে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। কারণ হিসেবে বিএনপি মনে করছে, ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করলে জয় অধিকতর সহজ হবে। তাই শরিকদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩টি দলের শীর্ষ নেতা বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গণ অধিকার পরিষদও নির্বাচনে জয়ের কৌশল হিসেবে ইতিমধ্যে রাশেদ খানকে বিএনপিতে যোগদানের অনুমতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ থেকে নির্বাচন করছে। সেখানে নির্বাচনে জয়লাভের কৌশলের জন্য আমরা তাকে দল থেকে অনুমতি দিয়েছি। সে ধানের শীষে নির্বাচন করবে।’

তিনি বলেন, ‘রাশেদ খান গণ অধিকারের দল থেকে পদত্যাগ করবে। আমরা শিগগিরই একজনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেব।’

জানা গেছে, বিএনপির দিক থেকে দলে যোগদানের বিষয়ে রাশেদকে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ জানানো হয়নি। জানালে অফিশিয়ালি গণ অধিকার পরিষদে পদত্যাগপত্র পাঠাবেন রাশেদ।

এর আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন বিএলডিপির সভাপতি শাহদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ এবং এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

রাশেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ : ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে মনোনয়ন বদলের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা।

গতকাল বিকেলে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুর্শিদা জামান বেল্টুর সমর্থকরা কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করেন। উপজেলা ও পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী রাশেদ খানকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে ঝিনাইদহ-৪ আসনে আগামী ২৮ তারিখের মধ্যে বিএনপির কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান এই সংসদীয় আসনের বাসিন্দা নন। তিনি ঝিনাইদহ-২ আসনে গত ৪-৫ দিন আগেও গণসংযোগ করেছেন। এখানে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে তাকে কালীগঞ্জবাসীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কালীগঞ্জের মানুষ কোনো বহিরাগত ব্যক্তিকে কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন নেতাকর্মীরা।

কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস রহমান মিঠু বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনজন নেতাকর্মী খোঁজখবর রেখেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে বহিরাগত একজনকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে আমরা তিনজন মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপির কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে বহিরাগত ব্যক্তিকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান আরও দুদিন আগে দেশে এলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না। আগামী দিনে আমার নেতাকর্মীরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটা মাথা পেতে নেব।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মুর্শিদা জামান বেল্টু বলেন, আমরা কালীগঞ্জের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত। আমার স্বামী এখানকার ৪ বারের সংসদ সদস্য ছিলেন। আমরা কোনো বহিরাগত ব্যক্তিকে চাই না। দ্রুতই বিএনপির কাউকে মনোনয়ন দিতে হবে। কালীগঞ্জের মাটি ধানের শীষের ঘাঁটি। চক্রান্ত করে এই ধানের শীষকে হারিয়ে ফেলা হচ্ছে।