নতুন বছরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন যেভাবে

আর কয়েক দিন পরেই শুরু হবে একটি নতুন বছর। এখনই উৎকৃষ্ট সময় পুরনো বছরের পর্যালোচনা করার এবং নতুন বছরের জন্য পরিকল্পনা সাজিয়ে নেওয়ার। নতুন বছরের জন্য কেমন প্রস্তুতি থাকা উচিত তা নিয়ে লিখেছেন লিজা চৌধুরী

২০২৬ সাল আসার আগে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুন

২০২৬ সালের জন্য পরিকল্পনা করার আগে ২০২৫ সালের পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ২০২৫ সালের পর্যালোচনার জন্য নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন।

২০২৫ সালের কোন অর্জনটির জন্য আপনি সবচেয়ে বেশি গর্বিত?

এই প্রশ্নের উত্তরটি আপনাকে আপনার ২০২৫ সালের শ্রেষ্ঠ অর্জন সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেবে। এতে আপনার স্মরণে আসবে আরও অনেক সাফল্য। এই আত্মবিশ্বাস আপনাকে ২০২৬ সালের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে। ২০২৬ সালে লক্ষ্য নিশ্চয়ই ২০২৫ সালের সফলতার থেকে পরিমাণে কম করে নির্ধারণ করবেন না? ২০২৫ সালের সাফল্য ২০২৬ সালে কাজ করতে আপনাকে সর্বদা উৎসাহিত করবে।

কোন ব্যক্তি বা কাজ আপনাকে ইতিবাচক উদ্দীপনা জুগিয়েছে?

এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি খুঁজে পাবেন এমন মানুষদের যারা আপনাকে লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করেছে। ২০২৬ সালেও তাদের নিজের পাশে রাখার চেষ্টা করুন। ভালো হয় যদি, ২০২৫ সালের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য বছর শেষে তাদের আবার ধন্যবাদ জানাতে পারেন।

২০২৫ সালের বড় বড় সিদ্ধান্তের ফল

কী হয়েছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আপনি বুঝতে পারবেন, ২০২৬ সালে কোন বিষয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ আর কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উপকারী। 

২০২৫ সালে কোন বিষয়টি আপনার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, কোনটি মনোযোগ পায়নি?

এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে আপনাকে ২০২৬ সালে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

২০২৬ সালের পরিকল্পনা

বলা হয়ে থাকে, যার আজকের দিনটি গতকালের থেকে উত্তম হলো না তার ধ্বংস অনিবার্য। এ কথার অন্তর্নিহিত অর্থ হলো, মানুষকে প্রতিদিন আত্মোন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। একইভাবে ২০২৬ সালের পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে যেন, ২০২৬ সাল ২০২৫ সালের থেকেও বেশি সফলতা, প্রশান্তি ও প্রাচুর্য নিয়ে আসে।

বছরের পরিকল্পনা : ২০২৬ সালে আপনি যে যে লক্ষ্য অর্জন করতে চান সেগুলো লিখে ফেলুন। হতে পারে ৫০টি বই পড়া আপনার লক্ষ্য। তাহলে বইগুলোর নাম লিখে ফেলুন। যদি ভাষা শেখা লক্ষ্য নির্ধারণ করেন তাহলে কোন কোন ভাষা শিখতে চান এবং এর জন্য কী কী পদক্ষেপ নিতে চান তা লিখে ফেলুন। যদি ভালো জিপিএ অর্জন করতে চান তাহলে নির্দিষ্ট একটি জিপিএ নির্ধারণ করুন। রুটিন তৈরি করুন। কোন বিষয়ে কত নম্বর পেলে সেই জিপিএ অর্জন করতে পারবেন তা বের করুন। যদি সাঁতার শিখতে চান বা মার্শাল আর্ট শিখতে চান সেটিও লিখুন। এবার এগুলোর জন্য একটি বাৎসরিক রুটিন তৈরি করে ফেলুন। প্রতিটি কাজের জন্য সময় ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে ফেললে লক্ষ্য অর্জনের জন্য অর্ধেক কাজই করে ফেললেন। এরপর বছরব্যাপী সেই তালিকাটি অনুসরণ করে পৌঁছে যাবেন কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে।

নিজের কাজের তদারকি : বাৎসরিক রুটিনটি ঠিকভাবে অনুসরণ করার জন্য একটি দৈনন্দিন রুটিন তৈরি করুন। যে কাজগুলো প্রতিদিন করতে হয় সেগুলো সেখানে যুক্ত করুন। দক্ষতা অর্জন করতে চান এমন বিষয় একবারে একটি যুক্ত করুন। যেমন আপনি যদি ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে চান তাহলে ছয় মাস বা তিন মাসের কোনো কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। তখন দক্ষতা অর্জনের কোনো কোর্স যেমন ফ্রিল্যান্সিং বা গবেষণাপদ্ধতি শেখার কোনো কোর্সে ভর্তি হবেন না। তবে শখ বা খেলাধুলা বিষয়ক কাজে যুক্ত হতে পারেন। যেমন মার্শাল আর্ট বা সাঁতার শেখা। তবে দুটি একসঙ্গে নয়। একটি শেখা হয়ে গেলে আরেকটি শেখা শুরু করবেন। তবে যেটি শিখলেন সেটির অনুশীলন বাদ দেওয়া যাবে না। বইপড়ার জন্য দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ফাঁকা রাখুন। ঘুম থেকে ওঠা এবং ঘুমাতে যাওয়ার সময় নির্দিষ্ট রাখুন। এটি আপনার রুটিন বজায় রাখতে সহজ করবে।

শরীরের যত্ন : প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা পানি পান করে শরীরচর্চা করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করুন। প্যাকেটজাত খাবার বর্জন করুন। শাক-সবজি বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন। শরীর সুস্থ থাকলে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করতে পারবেন।

মাসিক পর্যালোচনা

প্রতি মাস শেষে কমপক্ষে ৩০ মিনিট একটি পর্যালোচনার সময় রাখুন। নিজেকে এই সময়ে প্রশ্ন করতে হবে, এই মাসে এমন কী শিখলাম? এই মাসে সবচেয়ে বেশি উন্নতি কোথায় হয়েছে? কোন কাজটি ভিন্নভাবে করতে পারতাম? কোন বিষয়কে পরবর্তী মাসে আমি বেশি গুরুত্ব দেব? এই পর্যালোচনা পরবর্তী মাসে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।