ধূমপানই ফুসফুস ক্যানসারের প্রধান কারণ

অধ্যাপক ডা. মো. ইয়াকুব আলী

রেডিয়েশন ও মেডিকেল অনকোলজিস্ট

বিভাগীয় প্রধান, এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সাভার, ঢাকা

ফুসফুসের ক্যানসার এক মারাত্মক ব্যাধি। যেখানে এক বা উভয় ফুসফুসের কোষগুলোর অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি এর কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে।

কারণ : প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান ফুসফুস ক্যানসারের প্রধান কারণ, শতকরা ১০-১৫ ভাগ অধূমপায়ীরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়াও ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাসবেসটস, আর্সেনিক, নিকেল, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, রেডন নিঃসৃত হয় এমন পরিবেশে যারা দীর্ঘদিন কাজ করেন যেমন কয়লা খনি, জাহাজ কারখানা, ইস্পাত ও সিমেন্ট মিল, পেট্রোলিয়াম পরিশোধনাগার প্রভৃতি। বায়ুদূষণ, উচ্চ তেজস্ক্রিয়তা সম্পন্ন পরিবেশে অবস্থান, দীর্ঘদিন লাকড়ি ও কাঠের জ্বালানি ব্যবহার, নিকট আত্মীয়ের মাঝে ফুসফস ক্যানসারের ইতিহাস এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস।

লক্ষণ : প্রাথমিকভাবে বেশিরভাগ ফুসফুস ক্যানসার স্বল্প সময়ে অপ্রত্যাশিত ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাশির ধরন পরিবর্তন এবং কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া, গলায় চাকা অনুভব করা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, মুখ ও চোখ ফুলে যাওয়া এ ধরনের উপসর্গ তৈরি করে। ক্যানসার  ফুসফুসের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে তাদের খিচুনি, শরীরের নিচের অংশের বলশক্তি কমে যাওয়া, পেটে পানি আসা, প্রচন্ড হাড়ব্যথা ইত্যাদি থাকতে পারে।

ধরন : ফুসফুস ক্যানসারকে squamous, adwno, small and large cell  এই চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়, এর মধ্যে adenocarcinoma-এর সংখ্যা শতকরা ৩৫-৪৫ ভাগ এবং ধূমপায়ীদের মাঝে squamous Ges small cell  ক্যানসারের হার বেশি।

রোগ নির্ণয় : বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুস ক্যানসার শনাক্ত করা হয়। যেমন শারীরিক পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, টিউমার ও লিম্ফ নোডের বায়োপসি পরীক্ষা, গ্লুরোস্কোপি, ব্রংকোস্কপি, পিইটি সিটি স্ক্যান প্রভৃতি। অধিকাংশ ক্যানসার অনিরাময়যোগ্য পর্যায়ে শনাক্ত হয়ে থাকে।

চিকিৎসাপদ্ধতি : ক্যানসারের পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও উপশমকারী চিকিৎসা। চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির প্রেক্ষাপটে বর্তমানে জিনগত পরিবর্তনের ধরন অনুযায়ী কেমোথেরাপির ওষুধ দেওয়া হয়। যেমন Erlotinib, Geftinib, Crizotinib প্রভৃতি। সর্বোপরি ফুসফুস ক্যানসার চিকিৎসার জন্য বহুমুখী চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। দ্রুততম সময়ে রোগ নির্ণয় সম্ভব হলে রোগী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

প্রতিকার : ধূমপান ও তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন বাদ দিতে হবে, ধোয়া Carcinogenic বস্তুর সংস্পর্শে এড়িয়ে চলা, বায়ুদূষণ হ্রাসে  সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি ব্যবহার এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষা নিশ্চিতকরণ। বর্তমান ও সাবেক ধূমপায়ীদের প্রতি বছর এলডিসিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা। স্বাস্থ্যকর বিশেষ করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা।