মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ

জোটের প্রার্থী পরিবর্তন করে বিএনপির প্রার্থী দিতে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। গতকাল শনিবার বিকেলে পৌর শহরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তারা। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এর আগে, কাফনের কাপড় পরে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উপরে বসে পড়েন নেতাকর্মীরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করেন নেতারা। সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেন জোটের প্রার্থী বাদ না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করানো হবে।

নেতাকর্মীরা জানান, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই গত বুধবার দুপুরে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন করে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বদলের ঘোষণায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। প্রতিবাদে টানা দুদিন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে নেতাকর্মীরা। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, প্রার্থী পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হচ্ছে। জোটের প্রার্থী বাদ দিতে আজ রবিবার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সব ওয়ার্ডে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল হবে।

এদিকে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করেছেন উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল বিকেলে চান্দিনা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের পর একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কাফনের কাপড় পরে মহাসড়কে অবস্থান নেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওনকে উপেক্ষা করে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন ড. রেদোয়ান আহমেদ। একই দিন দুপুরের মধ্যেই তাকে কুমিল্লা-৭ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। অপরদিকে ওই দিন বিকেলেই আতিকুল আলম শাওন সমর্থিত নেতাকর্মীরা চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এতে চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দীন ভূঁইয়া। তারা বলেন, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।