চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আবু সুফিয়ান সিজু (২৫) নামে এক তরুণকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এতে তার দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গুরুতর অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। আহত সিজু শ্যামপুর-বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। গত বুধবার রাতে উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুরঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে এটি নিয়ে গতকাল থেকে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতের দুজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই ব্যক্তি হলেন শাহ আলম (২২) ও তার ভাই আবদুর রাজ্জাক (২৩)। তাদের বাড়ি শ্যামপুর খোচপাড়া গ্রামে। উমরপুরঘাটে তাদের ওষুধের দোকান আছে।
সেই দোকানের সামনেই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় লোকজনের বরাতে পুলিশ বলছে, বুধবার সন্ধ্যায় উমরপুরঘাট এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত সিজুকে পথরোধ করে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। হামলাকারীরা সিজুর দুই হাতের কব্জি এবং পায়ের পাতায় গুরুতর জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন।
আহত সুফিয়ানের মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ বলেন, ‘এক স্বজন কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদের জেরে সুফিয়ানকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় কর্মীরা।’
সুফিয়ানের মামা আজিজুল বলেন, ‘এ ঘটনায় শাহ আলম ও আবদুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা দুজন আমার ভাগ্নেকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রেখেছিল। যারা কুপিয়েছে তারা এখনো ধরা পড়েনি। তারা জামায়াতের কর্মী।’
অভিযোগের বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বাবুল ইসলাম বলেন, ‘এটি কারা করেছে আল্লাহ ভালো জানেন। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে। জামায়াতের জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। এ সন্ত্রাসী ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার মানুষ গতকাল শুক্রবার মানববন্ধন করেছেন।’
তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন ব্যক্তি জামায়াতের কর্মী।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ঘটনার পর রাতেই তিনজনের নামে মামলা করেছেন আবু সুফিয়ানের বাবা। এরপর আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে। আশা করছি, বাকি জড়িতরাও গ্রেপ্তার হবে।