সড়ক নেই, আছে শুধু সেতু

খালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। তবে নেই সংযোগ সড়ক। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার আলাই খালের ওপর নির্মিত এই সেতু স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না। প্রায় ২০ ফুট উঁচু সেতুর চারপাশ বর্ষা মৌসুমে পানিতে ভরা থাকে। সে সময় খাল পারাপারে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা নৌকা। ফাঁকা জায়গায় এই খালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি।

সেতুর আশপাশে এখনো বসতি গড়ে ওঠেনি। সেখানে দুই বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করেছে ইসলামপুর পৌরসভা। সেতুর কোনো সংযোগ সড়ক নেই। টাকা হাতিয়ে নিতেই অপ্রয়োজনীয় এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ইসলামপুর উপজেলার কাঁচীহারা এলাকার আলাই খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ইসলামপুর পৌরসভা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, সেতু-কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে আলাই খালের ওপর ১০ ফুট দীর্ঘ ও ৫ ফুট প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ৩৭ লাখ ২১ হাজার ১৭০ টাকা। কথা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে এর নির্মাণকাজ শেষ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, সেতুটি নির্মাণের সময় পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেখ বেশ কয়েকবার এসেছেন। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সেতুর কাজ করেছেন। টাকা ব্যয়ের জন্যই এখানে সেতুটি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সড়ক নেই, অথচ সেতু আছে। কাজ করলেই টাকা হাতিয়ে নেওয়া যায় এটাই এখানে হয়েছে। সেতুর চারপাশে কোনো সড়ক নেই। সেতুর দক্ষিণ পাশে মাত্র একটি বাড়ি রয়েছে। বাকি তিন পাশে কাছাকাছি কোনো বসতি নেই। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার কাচীহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে একটি সড়ক পচাবহালা এলাকায় চলে গেছে। খালের পশ্চিমে কাচীহারা আর পূর্বপাশে আলাই পূর্বপাড়া এলাকা। খালটি দুটি এলাকাকে পৃথক করেছে। আর আলাই খালটি গিয়ে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলেছে। দুটি এলাকার মানুষের চলাচলের জন্যে আগে থেকে এই খালের ওপর এই সেতুর প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে আরও বড় দুটি সেতু রয়েছে। শুকনো মৌসুমে খালে পানি না থাকায় সেতুর চারপাশে স্থানীয়রা ধানের চারা লাগিয়েছেন।

কাচীহারা গ্রামের কৃষক ইসমাইল খান বলেন,‘রাস্তা না করে সেতু বানিয়েছে। এ কারণে সেতু দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারে না। ওই যে দূরে একটা বাড়ি দেখছেন না, তারা যাতায়াত করতে পারতেন, যদি রাস্তাঘাট থাকত। এই সেতু কার জন্য বানিয়েছে, যারা বানিয়েছে, তারাই বলতে পারবে।’

জানতে চাইলে ইসলামপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বুলবুল আহাম্মেদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সে সময় যিনি (মেয়র) দায়িত্বে ছিলেন তিনিই সেতুটি নির্মাণ করেছেন। তখন কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তখন আমাদের কোনো আপত্তি কাজে আসেনি। পরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রকল্প দিলে ওই জায়গায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক নাজমুল হুসাইনের মোবাইল ফোনে কল করলে প্রথমে তিনি রিসিভ করেননি। পরে বিষয়টি জানিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে তিনি সেতুর ছবি দেখতে চান। এরপর তাকে সেতুর ছবি পাঠিয়ে একাধিকবার কল করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।