ইরানে বিক্ষোভে নামলেন শিক্ষার্থীরা

অর্থনৈতিক সংকট ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। তেহরানে দোকানদারদের আন্দোলনের পরদিন মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন।

শ্রমিক-ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ইলনা জানায়, সারা দেশে অন্তত দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে তেহরানের সাতটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইসফাহানের একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ইয়াজদ ও জানজান শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রতিবাদ হয়েছে।

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড় ও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে আগের দিন বন্ধ থাকা রাজধানীর অধিকাংশ দোকান আবার খুলে যায়।

ইরানের মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনের মধ্যেই এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এক বছর আগে যেখানে এক মার্কিন ডলার বিনিময় হতো প্রায় আট লাখ বিশ হাজার রিয়ালে, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় চৌদ্দ লাখ বিশ হাজার রিয়ালে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা চরম চাপে পড়েছেন। সরকারি হিসাবে, ডিসেম্বরে দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় বায়ান্ন শতাংশে।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন এবং একই সঙ্গে বিক্ষোভকে কাজে লাগানোর যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করেন।

অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে সোমবার সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে পরিবর্তন করে নতুন নিয়োগ দেয়। দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে পুনর্বহাল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।