অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ব্যাটার ডেমিয়েন মার্টিন মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বক্সিং ডেতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কৃত্রিম কোমায় আছেন।
মার্টিনের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রিকেট বিশ্ব থেকে তার প্রতি সমর্থন ও শুভকামনা জানানো হচ্ছে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ড্যারেন লেহম্যান সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, পরিবারসহ মার্টিনের জন্য ভালোবাসা ও প্রার্থনা করেছেন। মার্টিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাডাম গিলক্রিস্ট জানান, ডেমিয়েন সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা পাচ্ছেন। মার্টিনের জীবনসঙ্গী আমান্ডা ও তার পরিবারের সদস্যরা বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রার্থনা ও শুভকামনার কথা জানেন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেন, ডেমিয়েন মার্টিনের অসুস্থতার খবর শুনে তিনি মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও পুরো ক্রিকেটাঙ্গন তার পাশে রয়েছে। মেনিনজাইটিস রোগ মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক ঝিল্লির প্রদাহ। সংক্রমণের কারণে মস্তিষ্কে ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে। গোল্ড কোস্ট বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মুখপাত্র আজ সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে বলেন, ‘ডেমিয়েন মার্টিন এখন গুরুতর অবস্থায় আছেন।’
ডেমিয়েন মার্টিন ছিলেন তার সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রোকমেকার। তিনি ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ৬ বছরের বিরতির পর ২০০০ সালে দলে ফিরে স্টিভ ওয়াহর সর্বজয়ী অস্ট্রলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন। ২০০৬ সালের অ্যাশেজ সিরিজ চলাকালীন অবসর নেওয়ার আগে টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ৪৬.৩৭ গড়ে ৪ হাজার ৪০৬ রান করেন, যার মধ্যে ১৩টি সেঞ্চুরি আছে।
ওয়ানডে ক্রিকেটেও তিনি ছিলেন সমান সফল। ১৯৯৯ এবং ২০০৩ বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন মার্টিন। জিতেছেন ২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৮ রান করে রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে ২৩৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪০.৮০ গড়ে মোট ৫ হাজার ৩৪৬ রান করেন। সেঞ্চুরি আছে ৫টি। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কিছুদিন ধারাভাষ্যে কাজ করলেও পরবর্তীতে তিনি আড়ালেই থেকেছেন।