যশোরে বিদায়ী বছরে ভয়াবহ অপরাধচিত্র সামনে এসেছে। খুন, ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতনসহ নানা ধরনের অপরাধে জেলা জুড়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জেলায় অন্তত ৬৬টি হত্যাকা-, ৭৮টি ধর্ষণের ঘটনা এবং প্রায় তিন হাজারের মতো বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
বছরের শুরু থেকেই জেলায় একের পর এক নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে। গত ২২ মে অভয়নগরের ডহর মশিয়াহাটি গ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ও কুপিয়ে কৃষকদল নেতা তরিকুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। এর কিছুদিন পর ২৩ জুলাই সদর উপজেলার সুজলপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাইয়ের হাতে বোন শারমিন খুন হন। ২৫ মে ইজিবাইক চালক সেলিম রেজা ডাবলুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় এবং পরদিন তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
৯ অক্টোবর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে চঞ্চল গাজী নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ১০ জুন শার্শা উপজেলার দুর্গাপুরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত লিটন নামের এক যুবক বোমা হামলা ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ১৫ জুন অভয়নগরে কুয়েতফেরত যুবক হাসান শেখকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ১৪ আগস্ট কেশবপুরে তারেক সরদার নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৭ ডিসেম্বর শহরের শংকরপুর এলাকায় যুবক তানভীর হাসান হত্যার ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলরসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
শুধু হত্যাকান্ড নয়, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনক মাত্রায় বেড়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সামনে আসে। কোনো কোনো ঘটনায় অভিযুক্তদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। আবার কোথাও মামলা হলেও আসামিরা দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। শিশুকন্যা ও কিশোরীদের ওপর সহিংসতার ঘটনাগুলো সামাজিকভাবে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, সংঘটিত সব ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অধিকাংশ ঘটনায় মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেক মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল হয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সমন্বয়ক শেখ মাসুদুজ্জামান বলেন, অপরাধ দমনে শুধু মামলা ও গ্রেপ্তার নয়, সামাজিক প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি হয়ে উঠেছে। তা না হলে যশোরে অপরাধের এই ঊর্ধ্বগতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।