লন্ডনের ক্লাব চেলসিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বোর্নমাউথের বিপক্ষে ড্র ম্যাচের পর ক্লাবের প্রধান কোচ এনজো মারেস্কা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। ক্লাবের সহমালিক বেহদাদ এগবালি এবং ক্রীড়া পরিচালক পল উইনস্ট্যানলি ও লরেন্স স্টুয়ার্টের সঙ্গে কোচের মতপার্থক্য সাম্প্রতিক সময়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মারেস্কার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ইতালিয়ান এই কোচ সাম্প্রতিক ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না থাকায় জল্পনা আরও বেড়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সংবাদ সম্মেলনে যাননি। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, মারেস্কা ইচ্ছাকৃতভাবেই সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে যান। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
ক্লাব বোর্ডের আরোপিত শর্ত ও চাপই এই সংকটের মূল কারণ বলে মনে করছেন মারেস্কা। তার দাবি, ব্যবস্থাপনার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ একজন শীর্ষ পর্যায়ের কোচের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। লেস্টার সিটি থেকে চেলসিতে আসার পর তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, কনফারেন্স লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্য তার পরিকল্পনাকে দৃঢ় ভিত্তি দেবে। কিন্তু বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব ও প্রতিষ্ঠানগত চাপ সেই প্রত্যাশাকে ম্লান করে দিয়েছে।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শেষ ম্যাচে গ্যালারি থেকে মারেস্কার বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা যায়। বিশেষ করে কোল পামারকে বদলি করার সিদ্ধান্তে সমর্থকদের ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মারেস্কা নিজেই স্বীকার করেছেন, ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এটাই ছিল তার সবচেয়ে কঠিন সময়, কারণ এই সময়ে তিনি ও দল প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। সাম্প্রতিক ফলাফলও চাপ বাড়িয়েছে। লিগে এগিয়ে থেকেও চেলসি একাধিক ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েছে, যার বড় অংশই নিজেদের মাঠে। এতে শীর্ষ চারে থাকার লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে।
চেলসির কোচিং পদের এই অস্থিরতা নতুন নয়। এক বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর মালিকানায় যাওয়ার পর থেকে ক্লাবটি একাধিক কোচ পরিবর্তন করেছে। সেই তালিকায় মারেস্কার নামও যুক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী ম্যাচগুলো চেলসির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যানচেস্টার সিটি ও ফুলহামের বিপক্ষে ফলাফল নেতিবাচক হলে লিগের মাঝামাঝি অবস্থানে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।