সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনের আল্পস পর্বতমালার বিলাসবহুল স্কি রিসোর্ট শহর ক্রঁ-মঁতানার একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের মুখপাত্র গায়েতান লাথিওন জানান, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন চলাকালে স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে লে কনস্টেলেশন নামক একটি বারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গায়েতান লাথিওন বলেন, ওই সময় ভবনটির ভেতরে শতাধিক মানুষ ছিল। প্রাথমিকভাবে সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরণের খবর এলেও পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শুধু শুরু হয়েছে। ক্রঁ-মঁতানা একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে প্রচুর পর্যটক ছিলেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসকে একটি মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার দগ্ধ রোগীদের চাপে ফ্রেঞ্চভাষী অঞ্চলের হাসপাতালগুলোয় হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র ও হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগের অবস্থা গুরুতর। হতাহতদের মধ্যে অনেকে অন্য দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছেন ভ্যালাইস ক্যান্টনের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান স্টিফেন গ্যাঞ্জার। বিখ্যাত ম্যাটারহর্ন পাহাড় থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার উত্তরে সুইজারল্যান্ডের আল্পসের হৃৎপিণ্ডে অবস্থিত এই ক্রঁ-মঁতানা রিসোর্ট। সুইস গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, দাউ দাউ করে জ¦লছে একটি ভবন এবং পাশেই জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পুরো এলাকাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্রঁ-মঁতানার ওপর দিয়ে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা (নো-ফ্লাই জোন) জারি করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে পাঠানো হয়েছে ১০ হেলিকপ্টার এবং ৪০টি অ্যাম্বুলেন্স। এক কৌঁসুলি বিয়াট্রিস পিলোদ বলেছেন, নিহতদের দেহ তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের দেহ শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পানশালাটিতে কী থেকে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কর্র্তৃপক্ষ বলছে, এটি দুর্ঘটনা হয়ে থাকতে পারে।
কৌঁসুলি বিয়াট্রিস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা বিস্ফোরণের ঘটনাকে অগ্নিকাণ্ড হিসেবেই দেখছি। এটি কোনো হামলার ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করছি না। কর্র্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে।’