যুক্তরাজ্যের হেরেফোর্ডশায়ারে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ কর্র্তৃপক্ষ। সেন্ট ওয়েন স্ট্রিটে জলসাগর এবং টেস্ট অব রাজ নামের দুটি রেস্তোরাঁয় এ অভিযান পরিচালনা করে দেশটির ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের কর্মকর্তারা। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিবাসন অপরাধের সন্দেহে জালসাগর এলাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ‘টেস্ট অব রাজ’ থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছিল। আর বাকি দুজন জামিনের শর্ত ভেঙেছিল। রেস্তোরাঁ কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট নথি সিভিল পেনাল্টি কমপ্লায়েন্স টিমের কাছে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, অবৈধভাবে কাজ মজুরি কমায় এবং অভিবাসন অপরাধকে উৎসাহিত করে। যুক্তরাজ্য সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সহ্য করবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
এর আগেও অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজে নিয়োগ দেওয়ার কারণে ওই দুটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল ব্রিটেনের সরকার। রেস্তোরাঁ দুটির কর্র্তৃপক্ষের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে বিবিসি। তবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ওই দুটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট নথি সিভিল পেনাল্টি কমপ্লায়েন্স টিমের কাছে পাঠিয়েছে হোম অফিস। লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বেড়েছে। অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছর ব্রিটিশ সরকার এই পদক্ষেপ আরও জোরদার করবে বলে জানিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন ব্রিটেনের রাজনীতিতে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা উদ্যোগের পরও ইংলিশ চ্যানেল জুড়ে থামানো যাচ্ছে না অভিবাসীবাহী ছোট নৌকা।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪০ হাজার ৬৫২ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন। এ সংখ্যা ২০২৪ সালের মোট আগমনকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ কারণে ভূমিধস বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা লেবার পার্টির সরকার প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। কারণ, দিন দিন অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টির প্রতি জনসমর্থন বেড়েই চলেছে। আগামী মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে রিফর্ম ইউকে পার্টি। এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের আশ্রয়নীতিকে কঠোর করার লক্ষ্যে গত নভেম্বরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসন ইস্যুতে সংস্কার প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতার কারণে সেন্ট্রাল আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) নাগরিকদের জন্য ভিসানীতি কঠোর করেছে যুক্তরাজ্য।