হলফনামায় প্রার্থীর তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। সব হিসাব-নিকাশ শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে ২০ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রার্থীদের হলফনামা। আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের বিবরণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মামলার তথ্য নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্যে বাস্তবতার ঘাটতি আছে কি না সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত হলেও হলফনামায় তাদের বার্ষিক আয় কিংবা সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম দেখানো হয়েছে। আবার কিছু প্রার্থী নিজ নামে বাড়ি বা গাড়ি নেই উল্লেখ করলেও, তাদের স্ত্রীদের নামে বিপুল সম্পদের হিসাব উঠে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ও প্রশ্ন আরও বাড়িয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হলফনমার তথ্য নিয়ে আমরা ২০০৫ সাল থেকে লড়াই করে আসছি। উদ্দেশ্য একটাই জনগণকে ক্ষমতায়িত করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নির্বাচন কমিশন কখনোই প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেনি।

তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকেও আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, এসব তথ্য যাচাই করা হোক এবং যারা ভুল তথ্য দেয় বা তথ্য গোপন করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আইনেও এ ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছরের মাথায় হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৫৯টি। এর মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১ রাজনৈতিক দল। তাতে ৩০০ আসনে ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। আজ (শনিবার) যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থীদের জন্ম-তারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়ের উৎস, সম্পদের বিবরণ ও মামলার তথ্যসহ হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক। এসব তথ্য অসত্য প্রমাণিত হলে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি কেউ যদি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন, তার বিরুদ্ধে ‘কাউন্টার এফিডেভিট’ দেওয়ারও বিধান রয়েছে।

এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন এবার আইনে সংস্কার এনে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে শুধু নির্বাচন-পূর্ব পর্যায়েই নয়, ভোটের পরেও তদন্ত হবে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হতে পারে। এমনকি এমপি পদের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পরেও ফৌজদারি মামলার সুযোগ থাকবে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চললেও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে প্রার্থীরা হলফনামায় যে তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো কতটা সত্য ও নির্ভরযোগ্য? যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় উঠে আসছে নানা অসংগতি ও প্রশ্নবিদ্ধ তথ্য। দেখা যাচ্ছে, কিছু বিত্তবান প্রার্থী নিজেদের তুলনায় স্ত্রীদের সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি দেখিয়েছেন। কেউ আবার দীর্ঘদিন আইন পেশায় যুক্ত থাকলেও নিজেকে হলফনামায় ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এ ছাড়া বেশ কয়েকজন প্রার্থী জমি ও স্থাবর সম্পত্তির মূল্য বর্তমান বাজারদরের তুলনায় কয়েকগুণ কম দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও কোনো কোনো প্রার্থী তাদের আয়ের সুস্পষ্ট উৎস উল্লেখ করতে পারেননি। এসব অসংগতি হলফনামার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে এবং প্রার্থীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছে।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, বাস্তবে অনেকেই তথ্য গোপন করেন। সমস্যা হচ্ছে, কেউ যদি তথ্য গোপন করে এবং সেই সময়ের মধ্যে কেউ অভিযোগ না তোলে বা সুনির্দিষ্ট ডকুমেন্টসহ বিষয়টি তুলে না ধরে, তাহলে রিটার্নিং অফিসারের পক্ষে তা জানা সম্ভব হয় না। শুধু মৌখিক অভিযোগে কিছু করা যায় না, অবশ্যই প্রমাণপত্র লাগবে।

ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) সভাপতি মুনিরা খান বলেন, হলফনামার তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না হলে তা সরাসরি ভোটারদের প্রতি অন্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, ভোটাররা যে প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, সেই প্রার্থীদের তথ্য যদি সত্য ও পূর্ণাঙ্গ না হয়, তাহলে ভোটাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

 

কার হলফনামায় কী আছে : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) ও ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দাখিল করা হলফনামায় প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। আয়কর বিবরণী অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার মোট আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা, যার প্রধান উৎস শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, আমানত, বন্ড। বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা। স্ত্রী চিকিৎসক জুবাইদা রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ১৯১ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ৯২৫ টাকা, যার বিপরীতে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৩ টাকা। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের হওয়া ৭৭টি মামলার সবকটি থেকেই তিনি ধাপে ধাপে অব্যাহতি পেয়েছেন। যার মধ্যে ৪২টি মামলায় খালাস পেয়েছেন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং বর্তমানে তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৭৭ বছর বয়সী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হলফনামা অনুযায়ী বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। কৃষি, ব্যবসা ও পরামর্শক খাত থেকে তিনি এ আয় করেন। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদ ১ কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। পাঁচ একর কৃষিজমি ও পৈতৃক দোতলা বাড়ির অংশ তার নামে রয়েছে। মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে মোট ৫০টি মামলা ছিল যার ৪৭টি থেকে অব্যাহতি ও বাকি ৩টি খালাস। তিনি ৩ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সম্পদ প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে অস্থাবর ১ কোটি ২১ লাখ ৩২ হাজার, স্থাবর ১ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার। তার আয়কর ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮৫ টাকা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বয়স ৬৭ বছর। তার নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী মোট সম্পদ ১ কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কৃষি, ব্যবসা, পেশা ও বিনিয়োগ। তিনি কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদে রয়েছে ১১.৭৭ শতক জমিতে ডুপ্লেক্স বাড়ি, ২১৭ শতক কৃষিজমি, গাড়ি ইত্যাদি। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস, পেশায় চিকিৎসক। শফিকুর রহমানের স্ত্রীর কোনো আয় নেই, কোনো সম্পদ নেই। তার নামে মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৩২টি থেকে খালাস, ২টি হাইকোর্টে স্থগিত। তিনি কখনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার মোট সম্পদ আনুমানিক ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যার আয়ের একমাত্র উৎস ব্যবসা, যা থেকে বছরে সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় হয়। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদে রয়েছে কৃষিজমি, ভবন, নগদ, ব্যাংক আমানত, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমকম (অ্যাকাউন্টিং), বর্তমান পেশা ব্যবসা। স্ত্রী কামরুন্নাহার সালমার অস্থাবর সম্পদ ২২ লাখ ৫৭ হাজার টাকার সমমূল্য, যার মধ্যে ১৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।

হলফনামায় মোট ৪৮টি মামলার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন যার সবগুলোতেই খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন এবং বর্তমানে তার নামে কোনো সক্রিয় ফৌজদারি মামলা নেই। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা, বিপরীতে তিনি ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর দিয়েছেন। আয়ের উৎস হিসেবে পরামর্শক পদে কাজ উল্লেখ করা হয়েছে। নিজস্ব কোনো বাড়ি, গাড়ি বা স্থাবর সম্পত্তি উল্লেখ নেই, তবে অস্থাবর সম্পদে নগদ, ব্যাংক আমানত, গয়না, আসবাব ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী মিলিয়ে মোট ৩০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে নাহিদ ইসলামের। স্ত্রী কামরুন্নাহার সালমার অস্থাবর সম্পদ ১৫ লাখ টাকার সমমূল্য, যার মধ্যে নগদ টাকা ও গয়না আছে। নাহিদ ইসলামের বয়স ২৭ বছর, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। নাহিদের কোনো ঋণ নেই, স্ত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসন (পীরগাছা ও কাউনিয়া) থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা আসে কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে। তার অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য বর্তমানে ২৭ লাখ টাকা, নগদ, ব্যাংক আমানত, গয়না ও আসবাবপত্র মিলিয়ে। স্ত্রী সানজিদা আক্তারের অস্থাবর সম্পদ আনুমানিক ১৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে নগদ ও গয়না রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর, পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী। স্থাবর সম্পদ হিসেবে নিজের নামে ১১৮ শতাংশ কৃষিজমি উল্লেখ করেছেন। আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে, দুটিতেই তিনি জামিনে রয়েছেন।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার পেশা ব্যবসা, বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার মতো, যা আসে ব্যবসা ও অন্যান্য উৎস থেকে। তার মোট সম্পদ ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা, নগদ, ব্যাংক আমানত, শেয়ার, ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত আমানত এবং কৃষিজমি মিলিয়ে। স্ত্রী মারিয়া আক্তারের সম্পদ ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা, যার মধ্যে নগদ ও ব্যাংক অর্থ রয়েছে। নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬টি মামলা চলছে, এছাড়া ৮টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ৫৩ বছর বয়সী মাওলানা মো. মামুনুল হক ঢাকা-১৩ ও বাগেরহাট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৪ টাকা, যা আসে শিক্ষকতা ও ব্যবসা থেকে। অস্থাবর ও স্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদ প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যার মধ্যে নগদ, ব্যাংক আমানত, শেয়ার, বন্ড, আসবাবপত্র এবং অকৃষিজমি অন্তর্ভুক্ত। আয়কর রিটার্নে তিনি ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ টাকা আয় দেখিয়েছেন এবং ৪৯ হাজার ৩৪ টাকা আয়কর দিয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি ফৌজদারি মামলা চলমান, আর ২০১২-২০২১ পর্যন্ত দায়ের হওয়া ৩৮টি মামলায় তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন।

বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর জোটপ্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির শায়খ চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা, যা আসে শিক্ষকতা, মাহফিল এবং অ্যাপার্টমেন্ট থেকে। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদ ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯ হাজার ৯৩১ টাকা। যার মধ্যে ২ হাজার ৪৩৬ শতাংশ কৃষিজমি, ২ দশমিক ৪০ শতাংশ অকৃষি জমি ও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা না থাকলেও উপহার হিসেবে পাওয়া ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ও বিভিন্ন খাতে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা ছিল।