মাদারীপুরে সরকারি রাস্তার ইট তুলে নিতে বাধা দেওয়ায় এক নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রামদায়ের কোপে তার স্বামী তোতা মাতুব্বরের তিনটি আঙুল কেটে গিয়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও বাধা দেয় হামলাকারীরা। পরে পুলিশ এসে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামে। গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন রাজৈর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম।
এ ঘটনায় রাজৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম (৫০)। তিনি বদরপাশা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
প্রধান অভিযুক্তরা হলেন রাজৈর উপজেলার চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামের আলম মাতুব্বরের স্ত্রী কলি আক্তার (২১), তার বোন জামাই বক্কার বিশ্বাস (৪৫), প্রতিবেশী লোকমান হাওলাদার (৪৫) ও তার ছেলে কাইয়ুম হাওলাদার (২২)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামে সরকারি প্রকল্পের টাকায় তৈরি রাস্তাটিকে নিশ্চিহ্ন করতে ইট তুলে নিয়ে যান কলি, বক্কার, লোকমান, কাইয়ুমসহ তাদের স্বজনরা। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে নারী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম (৫০) ও তার স্বামী তোতা মাতুব্বরের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় রামদা দিয়ে কোপ দিলে তোতা মাতুব্বরের তিনটি আঙুল কেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্যর স্বামী আহত তোতা মাতুব্বর বলেন, ‘হাসপাতালে এলে সেখানেও আমাদের ওপর তারা হামলা চালায়। পরে পুলিশ এসে আমাদের রক্ষা করে ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেয়। এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।’
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে পিটিয়ে-কুপিয়ে আহত করেছে। আমাকেও মারধর করে জখম করেছে। আমাদের ওপর হামলার উপযুক্ত বিচার দাবি করি।’ এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মতামত জানার চেষ্টা করলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার ইট তোলাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্যর স্বামীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’