ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মহাসচিবের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলার ঘটনা ‘বিপজ্জনক নজির’ সৃষ্টি করতে পারে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এ দুটি দেশ ভেনেজুয়েলার মিত্র হিসেবে পরিচিত। অপর দুই স্থায়ী সদস্য এবং মার্কিন মিত্র ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ক্ষমতা থেকে মাদুরোর অপসারণকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশ দুটি বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক ডাকা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) এ বৈঠক হওয়ার কথা। খবর আল-জাজিরার।
অপরদিকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না— এই প্রশ্নে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। শনিবার সকালে বিবিসির অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন হামলার নিন্দা জানাননি।
স্যার কিয়ার স্টারমার বলেন, সব তথ্য এখনো সামনে আসেনি। তবে তিনি এটাও বলেন যে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন না এবং নিজেকে আন্তর্জাতিক আইনের আজীবন সমর্থক উল্লেখ করেন।
এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, শনিবার ভেনেজুয়েলায় চালানো ব্যাপক হামলায় যুক্তরাজ্য জড়িত ছিল না। অভিযানটির বিষয়ে তিনি এখনো ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেননি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘যুক্তরাজ্য মাদুরোকে একজন অবৈধ প্রেসিডেন্ট বিবেচনা করে এবং তার শাসনের অবসানে আমাদের কোনো দুঃখ নেই।’
তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়— এমন একটি বৈধ সরকারের কাছে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকার আগামী দিনগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে। এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত প্রায় ৫০০ জন ব্রিটিশ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কারাকাসে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাসের সঙ্গে সরকার কাজ করছে বলে জানান।
সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক আইন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সব তথ্য হাতে পেতে চাই, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সম্পূর্ণ চিত্র নেই। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আমাদের সব দিক মিলিয়ে দেখতে হবে। আমি পরিষ্কার করে বলতে পারি— এই অভিযানে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা নেই। এখন আমাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এবং আমাদের মিত্রদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তবে আমি এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছি না। আমি আন্তর্জাতিক আইন ও তার অনুসরণের গুরুত্বে আজীবন বিশ্বাসী। কিন্তু সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব তথ্য হাতে থাকা জরুরি।