ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
নতুন বছরের প্রথম দিন নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নেন জোহরান। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, জোহরান মামদানি প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেন্সকে আটক করার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা যুদ্ধের মতো একটা কাজ। একই সঙ্গে দেশের ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
‘তুলে নেওয়ার’ ১৫ ঘণ্টা পর মাদুরোকে বহনকারী উড়োজাহাজ নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। তাকে কড়া নিরাপত্তায় ব্রুকলিনের বন্দিশিবিরে (মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে) নেয়ার কথাও বলা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখান থেকেই তাকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে করা মামলায় ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।
গত শনিবার স্থানীয় সময় রাত ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে রাজধানী কারাকাসসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সরকার জানায়, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাকাসে বিস্ফোরণের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগেই জানতেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেন। এর কিছু সময় পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ‘লার্জ স্কেল স্ট্রাইক’ বা ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
পরে ভেনেজুয়েলায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে একটি বিচক্ষণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে এমন ইঙ্গিত দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে ভেনেজুয়েলায় আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তবে তার মতে, বর্তমান অভিযান সফল হওয়ায় এবং মাদুরো আটক থাকায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
এবার ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের
স্ত্রীসহ প্রেসিডেন্ট মাদুরো আটক, দাবি ট্রাম্পের
মাদুরো ও তার স্ত্রীর জীবিত থাকার প্রমাণ চান ভাইস প্রেসিডেন্ট
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ