২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১১ প্রাণহানি

দেশে গত বছর সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বেড়েছে। বিদায়ী বছরে সারা দেশে ৬৭২৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৪৮১২ জন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ছিল সবচেয়ে বেশি, যা মোট দুর্ঘটনার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। 

রবিবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, গত বছর মোট ২৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৯৯৩ জন এবং আহত হয়েছেন ২২১৯ জন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৭ শতাংশের বেশি। 

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আগের বছরের তুলনায় গত বছরে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় সাত শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌ-পথ মিলিয়ে দেশে সর্বমোট ৭৩৬৯ টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দুর্ঘটনায় মোট ৯৭৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৫০৯৬ জন।

দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংগঠিত দুর্ঘটনার প্রায় ৩৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭ শতাংশের বেশি আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং প্রায় ২৯ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। এছাড়া মোট দুর্ঘটনার কিছু অংশ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এবং রেলক্রসিং এলাকায় সংঘটিত হয়েছে।   
 
মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও সড়ক পরিবহন খাতে কার্যকর নীতিগত সংস্কার না হওয়ায় দুর্ঘটনা কমেনি, বরং মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি বেড়েছে। যানজট, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের কারণে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া বারবার বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকার সড়ক পরিবহনখাত সংস্কারে উদ্যোগ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনো অনিরাপদ সড়ক ও ভাড়া নৈরাজ্যের মধ্যে বন্দি।

তিনি আরও বলেন, এসব দুর্ঘটনার কারণে বছরে দেশের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ভয়াবহ এই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।