জমির লোভে ফাঁদে ফেলে বাবাকে হত্যা: পিবিআই

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

চট্টগ্রামে দুই বছর আগে সম্পত্তির লোভে ছেলের হাতে বাবা খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। ফাঁদে ফেলে অপহরণের পর শ্বাসরোধ করে বাবাকে হত্যা করে ছেলে। এই অভিযোগে ছেলে ও তার সহযোগী দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার এস এম  রফিকুল ইসলাম চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য তুলে ধরেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন নিহত মীর মজিবুর রহমান খানের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৫) ও তার সহযোগী আব্দুল জলিল।

পিবিআই জানায়, নিহত মীর মজিবুর রহমান খান (৬০) পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চারটি বিয়ে করেছিলেন। জমি বিক্রি ও সম্পত্তি নিয়ে বাবার সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় বেলাল হোসেনের।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার এস এম  রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত বেলাল হোসেন তার পরিচিত এক নারীকে দিয়ে বাবার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার নাটক সাজান। ২০২৪ সালের ৭ জুন ওই নারীর ডাকে নগরের বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় যান মজিবুর রহমান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বেলালের আত্মীয় আব্দুল জলিল। শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর মজিবুর রহমান অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বেলাল ও জলিল তাকে নিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে সন্ধ্যার পর নগরের হালিশহর এলাকার সিডিএ আউটার রিং রোড সংলগ্ন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ঝোপের পাশে ফেলে পালিয়ে যান তারা।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের জুন মাসে বেলালের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

এবিষয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার এস এম  রফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে আনোয়ারের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং তদন্তে বেলাল ও তার ভাই জলিলের নামই মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে। যে নারীকে দিয়ে ফাঁদ পাতা হয়েছিল তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর এসআই মো. আজমগীর বলেন, গত ১৩ জুন কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাবাকে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। আদালতে ১৪ জুন ১৬৪ ধারায় হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। বেলালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (১৪ জুন) জোরারগঞ্জের ঘেড়ামারা এলাকা থেকে আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জলিলকে সোমবার (১৫ জুন) আদালতে পাঠানো হয়।

২০২৪ সালের ৯ জুন নগরের হালিশহর থানা পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছিল। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় হত্যা মামলা দায়েরের পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত