খালেদা জিয়ার কবরে পঞ্চম দিনেও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তার জন্য খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। শোকবইয়ে স্বাক্ষর করতে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে সমাহিত খালেদা জিয়ার কবরে গতকাল রবিবার বিকেলে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) প্রতিনিধিরা। এ সময় মরহুমার আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়। বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামীম আহাম্মেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুরে শ্রদ্ধা জানায় এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গতকাল রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা। পরে তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা এ বৈঠক হয়।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেনের নেতৃত্বে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি. রহমান, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বিসিএমইএর সভাপতি ময়নুল ইসলাম স্বপন, বাপির সভাপতি আব্দুল মোকতাদির, বিএবির সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা কামাল, উত্তরা মোটর করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগে যে পর্বতসম সমস্যা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সেগুলো শুনেছেন তারেক রহমান। ব্যবসায়ীদের যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে, বিনিয়োগ হচ্ছে না, কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে, ক্যাপিটাল মার্কেটের সমস্যা এগুলো তুলে ধরেছেন তারা। এ ছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চাঁদাবাজের সমস্যা, ব্যাংক সুদের সমস্যা, দুর্নীতি এসব কারণে তাদের কস্ট বেড়ে যাচ্ছে। জনগণ সমস্যায় পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় বিদেশিরা বিনিয়োগ করবেন কীভাবে?
আমীর খসরু বলেন, আমরা নীতিমালা প্রণয়ন করেছি, এগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যত সংস্কার সব বিএনপির আমলে। ব্যবসায়ীরা আশা করেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবে। তিনি বলেন, বড় ধরনের যেসব সংস্কার দরকার, সেগুলো করতে যে নীতিমালার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাতে আমাদের ওপর খুবই সন্তুষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। বিএনপির আমলে শেয়ারবাজারে পতন, ব্যাংকে লুটপাট, টাকা পাচার হয়নি। বিএনপির ওপর তাদের আস্থা আছে। অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে তারা প্রত্যাশা করে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে চলমান যে সমস্যা রয়েছে ইন্ডাস্ট্রিকে চালিয়ে রাখা, কর্মসংস্থান ঠিক রাখা এবং বর্ধিত করা নিয়ে আমাদের কথাগুলো বলেছি। আমরা চেয়েছি, যে সরকারই আসুক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে ব্যবসায়ীদের কনফিডেন্স আনতে হবে। কারণ, আমাদের সাকসেসই কিন্তু সরকারের সাকসেস। আমরা আমাদের আলোচনাগুলো করেছি, সমস্যাগুলোর কথা বলেছি। উনারা নোট করেছেন। ওনারা হয়তো সব জায়গায় পারবেন না বা কিছু জায়গায় পারবেন। কিন্তু আন্তরিকভাবে তারা করতে চান।
বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, ইকোনমি যদি ঠিক করতে হয়, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে করা উচিত এবং সেটাই কিন্তু আমরা ওনাকে (তারেক রহমান) বলেছি। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট হলো, এমপ্লয়মেন্ট ক্রিয়েট করা। এখন কিন্তু আস্তে আস্তে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিগুলো বসে যাচ্ছে। আমরা বলেছি, এগুলো কীভাবে রিভাইভ করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমাদের কথা হলো, যে সরকারই আসুক না কেন, তারা যাতে সেই দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে। অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করা উচিত। উনি (তারেক রহমান) বলেছেন, হ্যাঁ, উনিও তাই মনে করেন। তার দল যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে পলিসিগুলো যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার এবং কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে না। কিন্তু একটা স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করবেন এবং ব্যবসায় সহায়ক একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা যেসব বিষয়ের কথা বলেছেন, সেগুলো পজিটিভ। আমি মনে করি যে, ব্যবসায়ীদের জন্য এটা সহায়ক। সবার ওপর যে বিষয়টা দ্রুত বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নতি করা উচিত। মব কালচার থেকে আমাদের বের হওয়া উচিত। এটা আমরা ওনাদের বলেছি এবং এটা না হলে ব্যবসা কেন, সাধারণ মানুষই তো আর নড়তে-চড়তে পারবে না।
এক প্রশ্নের জবাবে মীর নাসির হোসেন বলেন, তারেক রহমান আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের কথা শুনেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে, যদি ক্ষমতায় আসতে পারেন, আমাদের নিয়ে কাজ করবেন যাতে দেশের উন্নয়ন হয়, অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাই।
এ ছাড়া এদিন দুপুরে শোকবইয়ে স্বাক্ষর ও তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এ সময় দলটির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান ও মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কবি আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, কেএম মহসীন প্রমুখ। এ ছাড়া স্থায়ী সদস্য আতিকুর রহমান রুমনও উপস্থিত ছিলেন।