হলফনামা বিশ্লেষণ

দান-অনুদান নয়, নিজস্ব তহবিলেই নির্বাচনী ব্যয় সামলাবেন বিএনপির সুফিয়ান

সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের হলফনামায় চোখ বুলালে অধিকাংশ প্রার্থীকেই দেখা যাচ্ছে নির্বাচন ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন স্ত্রী, সন্তান কিংবা বন্ধু-স্বজনদের দান-অনুদানকে। এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ান। সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল দিয়েই নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি হলফনামায়। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসন থেকে নানা নাটকীয়তা শেষে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আবু সুফিয়ান। দলের প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার সময় বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত হিসেবে তার নাম ঘোষণার পর পরই আবার তা স্থগিত করা হয়েছিল। যে কারণে ‘মন্ত্রীর আসন’ নামে পরিচিত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা নিয়েও কিছুটা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে আবারও আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেয়া হয় দলের পক্ষ থেকে। ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, আবু সুফিয়ান তার নির্বাচনী ব্যয় উল্লেখ করেছেন ৪০ লাখ টাকার মধ্যে। আর নিজস্ব তহবিলকেই সম্ভাব্য অর্থ প্রাপ্তির উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিপূর্বেও আমি একাধিকবার নির্বাচন করেছি। কখনো আমি নির্বাচনী ব্যয় সামলানোর জন্য কারো কাছে অর্থ চেয়েছি এ কথা কেউ বলতে পারবে না। তিনি বলেন, ভোটের জন্য আমার কর্মিদের টাকা দিতে হয়না। যে কারণে অস্বাভাবিক কোন ব্যয় আমাকে করতে হয়না। আমার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও আয়ের উৎস আমি হলফনামায় উল্লেখ করেছি। সেই সম্পদ থেকেই আমার নির্বাচন ব্যয় নির্বাহ করতে পারবো। 

নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে (২০২৫-২৬) আবু সুফিয়ান সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৯৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭২৬ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ ৮৭ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৩ টাকা। ব্যাংকে জমার পরিমাণ ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৩ টাকা। ৫শতক কৃষি জমি ও ৫ শতক অকৃষি জমির মালিক বলে নিজেকে উল্লেখ করেছেন সুফিয়ান। এছাড়া ৬টি ফ্ল্যাট ও সরকার থেকে লিজ নেওয়া ৫০ শতক জমির ওপর একটি মৎস্য খামার রয়েছে তার। এছাড়া ১৮ লাখ টাকার গাড়ি, ৫ লাখ টাকার স্বর্ণের গহনা, সাড়ে ৪ লাখ টাকার ইলেক্ট্রনিক পণ্য ও সাড়ে ৩লাখ টাকার আসবাব পত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে হলফনামায়। সর্বশেষ বার্ষিক  আয়কর রিটার্নে তিনি আয় দেখিয়েছেন ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে চট্টগ্রাম-৯ আসনে আবু সুফিয়ানসহ মোট আট জনের প্রার্থিতা বৈধ  ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মো. হাসান মারুফ, নেজামে ইসলাম পার্টির মো. নেজাম উদ্দিন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আবদুশ শুক্কুর, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মো. শফি উদ্দিন কবির ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এর মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে যাচাই বাছাইকালে বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে, নির্বাচন কমিশনের আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে যাচাই বাছাই শেষে ১০২ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এদের মধ্যে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা দুই ডজনের বেশি। এসব প্রার্থীদের অধিকাংশই নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের উৎস হিসেবে, স্ত্রী, সন্তান, ভাই, আত্মীয় কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষীদের দান অনুদানের কথা উল্লেখ করেছেন।