আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে গাজীপুর-২ ও গাজীপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সাবেক দুই নেতার দুই ছেলে। তারা পিতার উত্তরসূরি হলেও নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দক্ষতায় দলে তাদের অবস্থান সুসংহত করেছেন। এলাকায়ও তাদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য পিতার সুনাম এবং নিজেদের গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগাচ্ছেন।
গাজীপুর-২ (গাজীপুর সদর, টঙ্গী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের ছেলে এম মঞ্জুরুল করিম রনি। অধ্যাপক এমএ মান্নান ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এম মঞ্জুরুল করিম রনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান রাজু বলেন, ‘গাজীপুরে উন্নয়নের রূপকার ছিলেন অধ্যাপক এমএ মান্নান। এখন তার ছেলের হাত ধরে গাজীপুর বিএনপি যেমন সুসংগঠিত তেমনি তিনি নির্বাচিত হলে পিতার পথেই হাঁটবেন এবং গাজীপুরকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাবেন বলে আশা করি।’
৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার সংখ্যার এ আসনে ১৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির এম মঞ্জুরুল করিম রনি, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ হোসেন আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ সরকার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. জিয়াউল কবির, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর মাসুদ রেজা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সরকার তাসলিমা আফরোজ, জাতীয় পার্টির মো. মাহবুব আলম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর আব্বাস ইসলাম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আলী নাছের খান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মো. আব্দুল কাইয়ুম।
অন্যদিকে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আ স ম হান্নান শাহর ছেলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান। আসম হান্নান শাহ মন্ত্রী থাকাকালে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তা ছাড়া তিনি ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গাজীপুরে বিএনপির শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার জন্য হান্নান শাহ ও অধ্যাপক এমএ মান্নানের অবদান জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা সব সময় স্মরণ করেন।
কাপাসিয়ার বিএনপিকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শাহ রিয়াজুল হান্নান তার পিতার মতোই কর্মীবান্ধব, এলাকার মানুষের কাছে প্রিয় এবং নিজ কর্মদক্ষতায় রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবেন বলে আশা করি।’
৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭ জন ভোটার সংখ্যার এ আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বৈধ প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন বিএনপির শাহ রিয়াজুল হান্নান, জামায়াতে ইসলামীর সালাহ উদ্দিন আইউবী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনির হোসেন, জাতীয় পার্টির এনামুল কবির এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মানবেন্দ্র দেব।