কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আদালতের রায় অমান্য করে অন্যের জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের হাফেজ আব্দুল খালেক গং এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি একই ইউনিয়নের চাঁন্দকরা উত্তরপাড়ায় ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগী কুয়েত প্রবাসী কাজী মো. মহিন উদ্দিন ও তার ভাই কাজী মো. নজরুল ইসলাম চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা উত্তরপাড়া এলাকার হাফেজ মো. আব্দুল খালেক গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ একই গ্রামের কাজী মহিন উদ্দিন গংদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৮ সাল আদালতে দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং-২৬৩/২০১৮) নিজেদের পক্ষে ২০২২ সালে রায় পান ভুক্তভোগী মহিন উদ্দিন গং। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষের আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২০২৪ সালে আদালত চূড়ান্ত রায় দেয়। চূড়ান্ত রায়েও একই আদেশ দেয় আদালত। আদালতের রায় অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে আদালত বাদী পক্ষকে তাদের প্রাপ্য জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও জুলাই গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী সময়ে কাজের গতি কিছুটা শিথীল হয়ে যাওয়ায় আদালত তাদের জায়গা এখনো বুঝিয়ে দিতে পারেনি। যার ফলে এখনো প্রাপ্য জমির দখল বুঝে নিতে পারেনি বাদী। আদালতকে সম্মান প্রদর্শন করার বিপরীতে বিবাদী পক্ষ তথা হাফেজ আব্দুল খালেক গং আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে জোরপূর্বক গত কয়েকদিন যাব উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা মৌজাধিন উত্তর পাড়া এলাকার বিবাদমান ওই কৃষি জমির (সিএস-৫৫ দাগ, ৭৩ শতাংশ অন্দরে ১৪ শতাংশ) টপসয়েল কেটে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও আদালতের রায়ে প্রাপ্ত একই মৌজার ২৪৯ দাগে ৬০ শতাংশ ও ১১০ দাগে ৫০ শতাংশ জমিও মহিন উদ্দিন গংকে ভোগদখল করতে দিচ্ছে না হাফেজ আব্দুল খালেক গং। এতে মহিন উদ্দিন গং স্থানীয় গন্যমান্য লোকজনকে অবহিত করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মহিন উদ্দিন এর পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি সহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও থানা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। সরেজমিন ঘুরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ফসলি জমির মাটি বিক্রির দায়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জরিমানা আদায়সহ উপজেলা প্রশাসন বেশ তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার সহ স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী কাজী মো. মহিন উদ্দিন এর স্ত্রী মোসা. তাহমিনা আক্তার কাজল সাংবাদিকদের জানান, আমাদের সঙ্গে পাশের বাড়ির হাফেজ আব্দুল খালেক গংদের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উভয়পক্ষের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। গত বছর আমরা আদালতের রায়ে আমাদের প্রাপ্য জায়গাগুলো পাই। এরপর থেকে আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আমাদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে ব্যাপক হয়রানি করে আসছে। এখন তারা জোরপূর্বক আমাদের জমি থেকে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তারা আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি আদালতের রায়ে প্রাপ্ত আমাদের জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাফেজ আব্দুল খালেক বলেন, আমার নিজ জমি থেকে আমি মাটি কাটছি। এতে ওদের এত মাথা ব্যাথা কেন? আদালতের রায়ে ওরা জমি পেলে বিষয়টি নিয়ে তারা আবার আদালতে যাক। এতে আমার তো কোনো আপত্তি নেই। এছাড়াও আদালতের রায়ে যদি তারা জমি পায় তাহলে আদালতই তো তাদেরকে জমি বুঝিয়ে দিবে।