বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দেওয়া মোস্তাফিজুর রহমান–সংক্রান্ত আইপিএল বিতর্কে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার মঈন আলী। বিশ্ব ক্রিকেটের ভাঙাচোরা সূচি ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতাই এ ধরনের সংকটের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলতে এসে ইংরেজী দৈনিক ডেইলি সানকে দেওয়া সাক্ষ্যাৎকারে মঈন বলেন, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই সময়টায় একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ওভারল্যাপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করছে। তার মতে, ফুটবলের মতো কাঠামোয় যেতে পারলে সমাধান মিলতে পারে—যেখানে বিশ্বকাপ ও আইসিসি ইভেন্টের পাশাপাশি এক-দুটি বড় সিরিজ থাকবে, বাকিটা হবে লিগনির্ভর।
মঈনের ভাষায়, “এই মুহূর্তে ক্রিকেট বড় সমস্যায় আছে। মোস্তাফিজের ঘটনায় সেটাই স্পষ্ট। কিছু একটা ঠিক নেই। এটা শুধু মোস্তাফিজের বিষয় নয়—পাকিস্তান, বাংলাদেশ—এ রকম সমস্যা বারবার ঘটছে।”
সম্প্রতি আইপিএলের নিলামে বড় অঙ্কে (প্রায় ৯.২ কোটি টাকা) কলকাতা নাইট রাইডার্সে সুযোগ পেয়েও বিসিসিআইয়ের হস্তক্ষেপে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন মোস্তাফিজ। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে—আইপিএল সম্প্রচার স্থগিতের নির্দেশ থেকে শুরু করে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
মোস্তাফিজের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে মঈন বলেন, “আমি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছি মোস্তাফিজের জন্য। দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রমের পর সে দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিল। অন্য দলে থাকলে হয়তো এমনটা হতো না। কিন্তু কেকেআরে যাওয়াতেই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভুগতে হলো তাকেই।”
বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে সরাসরি দোষারোপ না করলেও পরিস্থিতি সামলানোর ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। “ক্রিকেট মানুষ ভালোবাসে। উপমহাদেশে তো আরও বেশি। কেকেআরের হয়ে ফিজ খেললে বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য দারুণ হতো—এখানে ও ওপার বাংলায়। কিন্তু যা হলো, তা দুঃখজনক। দীর্ঘদিন ধরেই এমন হচ্ছে, সবাই বিষয়টা চাপা দেয়,” বলেন মঈন।
আইসিসির ভূমিকা নিয়েও হতাশা ঝরেছে তার কণ্ঠে। বড় ক্রিকেটিং শক্তিগুলোর নীরবতাও সমালোচনার মুখে পড়ে। মঈনের মন্তব্য, “অনেকে কথা বলে না। বলা উচিত। কিন্তু প্রত্যেকেরই নিজস্ব এজেন্ডা থাকে—যতক্ষণ নিজেরা ঠিক আছে, ততক্ষণ কেউ কিছু বলে না।”