পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখের বেশি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ৩৭ দিন বাকি আছে। আমরা মনে করি, আমরা খুবই ভালোভাবে প্রস্তুত আছি। এরই মধ্যে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী  বাহিনীর কনফিডেন্স লেভেল আরও একটু ভালো অবস্থায় আছে। কারণ তারা পরপর তিন-তিনটা বড় ইভেন্ট খুব সুচারুভাবে অর্গানাইজ করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় ইভেন্ট হয়নি।’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুল আলম।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে যারা কনফিউশন এখনো ছড়াচ্ছেন, আমরা দেখছি তো তাদের প্রোফাইলগুলো খুবই ক্লিয়ার। আগে তাদের রোল কী ছিল, তারা কেন ছড়াচ্ছেন।’

প্রেস সচিব বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা এবং সেই উপলক্ষে একটা বড় পলিটিক্যাল জনসমাগম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা-বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় ইভেন্ট কিন্তু হয়নি। আপনি যদি ইন টার্মস অব পিপলস প্রেজেন্স দেখেন, ক্রাউড নম্বর দেখেন, এত বড় ইভেন্ট বাংলাদেশে হয়নি। যখন সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়া মারা গিয়েছিলেন, তার জানাজা আমরা শুনেছিÑ অনেক বড় হয়েছে। আমাদের কাছে সেই সংখ্যাটি নেই, কিন্তু এই তিন- তিনটা ইভেন্ট পুলিশ সিকিউরিটি ফোর্সেস খুব সুচারুভাবে অর্গানাইজ করেছেন। সেজন্য আমি বলছি, আমাদের কনফিডেন্সটা আরেকটু বেটার।’

নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল বলেন, ‘এটা নিয়ে কিন্তু পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে আমাদের সিকিউরিটি যারা দেখেন, যে এজেন্সিগুলো, তারা কথা বলেছেন। যাদের সিকিউরিটি দরকার তাদের অনেককেই গানম্যান দেওয়া হয়েছে। আপনি পুরো লিস্টটা পুলিশের কাছে পাবেন। পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর কাছে পাবেন। অনেকে এ বিষয়ে বলতেও চান না। সেজন্য আমরা বলছিও না। কিন্তু পলিটিক্যাল পার্টি লিডারদের সিকিউরিটি অবশ্যই আমাদের একটা টপ প্রায়োরিটি, সেটা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। বিশেষ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এটা নিয়ে খুব কাজ করছে। আর এরপরও স্থানীয় লেভেল থেকে যদি তারা সিকিউরিটি চান, সেটা অবশ্যই পুলিশ খতিয়ে দেখবে, কতটুকু প্রয়োজন।’

এ সময় তিনি জানান, ভোটের গাড়ি ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় ক্যারাভানে গাড়ি ১০ থেকে বেড়ে ৩০টি করা হবে। নতুন করে আরও ২০টি গাড়ি যাওয়া শুরু করবে ৯ জানুয়ারি থেকে। এটা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরা ৩০টি টিভিসি দেখাবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওরা স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে থাকবে।

পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধনে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, চূড়ান্তভাবে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে দেশে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন ও বিদেশে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।