ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের পোস্ট সামলানোর দায়িত্ব শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের অধিনায়ক সুজন পেরেরার। লিগ টেবিলে ফর্টিস আছে যৌথভাবে শীর্ষে। ৯ ম্যাচে মাত্র ৩ গোল হজম করা ফর্টিসের ক্লিনশিটের সংখ্যা ৭। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিংড়ে দিয়ে ফর্টিসকে স্বপ্ন দেখানো সুজন দেশ রূপান্তরের সুদীপ্ত আনন্দ'র সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডায় বলেছেন অনেক কথা-
প্রশ্ন: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ঘরোয়া ফুটবল খেলছেন। কতটা উপভোগ করছেন?
সুজন পেরেরা: আমি ভীষণ উপভোগ করছি। প্রায় ৩৫ বছর পর কোনো শ্রীলঙ্কান ফুটবলার বাংলাদেশ ফুটবল লিগে খেলছে—এটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের।
প্রশ্ন: উপভোগ যে করছেন, আপনার পারফরম্যান্সই সেটার প্রমাণ দিচ্ছে...
সুজন: প্রতি ম্যাচেই দল ভালো খেলছে। আমরা ধারাবাহিক থাকার চেষ্টা করছি, তাই প্রতিটা ম্যাচই আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।
প্রশ্ন: আপনার দল এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। নিশ্চয়ই শিরোপা জয়ের লক্ষ্য থাকবে? সেটা হলে ফর্টিস এফসির জন্য হবে ইতিহাস।
সুজন: এই মুহূর্তে আমরা শিরোপা নিয়ে ভাবছি না। এখনো অনেক খেলা বাকী। অবশ্যই শিরোপা জেতা সবার স্বপ্ন, তবে কোচ সবসময় বলেন—এক ম্যাচ করে এগোতে হবে। আমরা প্রতিটা ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং ধারাবাহিক থাকতে চাইছি। অনেক বড় দল শিরোপার লড়াইয়ে আছে। তাই আমরা এক ম্যাচ করে এগোনোর দিকেই মনোযোগ রাখছি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ লিগের মান কেমন দেখছেন?
সুজন: এখানে ১০টি দলই শক্তিশালী। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকের দলও ওপরের দিকের দলকে হারাতে পারে। যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। তাই প্রতিটি ম্যাচই বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রশ্ন: ফর্টিস দল নিয়ে কিছু বলুন। সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিট ও সবচেয়ে কম গোল হজম করেছে। আপনার অবদান তো অনেক?
সুজন:এটা শুধু আমার কৃতিত্ব নয়। সবকিছুই আসে অনুশীলন মাঠ থেকে। কোচ কৌশলগত দিক নিয়ে অনেক কাজ করেন এবং ফর্টিসের নিজস্ব একটা স্টাইল গড়ে তুলতে চান। পুরো দল খুব পরিশ্রম করছে। আমরা প্রতিটি ম্যাচে ধারাবাহিক থাকার চেষ্টা করছি।
প্রশ্ন: অতীতে শীর্ষ মানের শ্রীলঙ্কান ফুটবলাররা বাংলাদেশের লিগে খেলেছেন। দীর্ঘদিন পর আপনি এসেও পূর্বসূরিদের মত দারুণ খেলছেন। এটা নিশ্চয়ই গর্বের?
সুজন: ৩৫ বছর পর কোনো শ্রীলঙ্কান ফুটবলার বাংলাদেশ ফুটবল লিগে খেলছে। এটা আমার জন্য গর্বের পাশাপাশি বড় দায়িত্বও। পাকির আলী, চন্দ্রসিরি, অশোকার মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা বহু বছর এখানে খেলেছেন এবং আমাদের দেশকে গর্বিত করেছেন। তাই আমার কাছে প্রতিটি ম্যাচই দায়িত্বের। আমি চেষ্টা করি, যেখানেই খেলি, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ফুটবলের মধ্যে কী পার্থক্য চোখে পড়েছে?
সুজন: শ্রীলঙ্কার ফুটবল এখন একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় দল নতুন করে গড়ে উঠছে এবং ঘরোয়া লিগটাও ধীরে ধীরে শক্ত ভিত্তি পাচ্ছে।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কা দলে বেশ কিছু প্রবাসী ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে নিশ্চয়ই বড় সাফল্যের আশা করছেন?
সুজন: প্রবাসী ফুটবলাররা দলে গুণগত মান ও অভিজ্ঞতা দুটোই নিয়ে এসেছে। সমর্থকরাও মাঠে তাদের দেখতে খুব আগ্রহী। আমরা শ্রীলঙ্কায় ধীরে ধীরে নতুন একটি ফুটবল সংস্কৃতি গড়ে তুলছি। দল এখন রূপান্তরের সময় পার করছে। এক বছর আগে আমরা ফিফা র্যাংকিংয়ে ছিলাম ২০৭ নম্বরে, এখন ১৯৪। আমার মনে হয় আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।
প্রশ্ন: এ বছর শ্রীলঙ্কায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়ার কথা। শ্রীলঙ্কা নিশ্চয়ই শিরোপা জিততে চাইবে?
সুজন: এটা শুধু শিরোপা জয়ের ব্যাপার নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় একটি ফুটবল সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। এখন মানুষ এই খেলাটাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। অনেক কিছু ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। ১৯৯৫ সালের পর আবার ঘরের মাঠে খেলতে পারব—এটা আমাদের ও সমর্থকদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা হবে।
প্রশ্ন: মালদ্বীপে সম্ভাব্য চারজাতি টুর্নামেন্ট নিয়ে আলোচনা চলছে। যেখানে আপনাদের খেলার কথা শোনা যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও নেওয়ালকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেখানে লক্ষ্য কী থাকবে?
সুজন: যদি টুর্নামেন্টটি হয়, তাহলে সেটা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সব দলের জন্যই ভালো প্রস্তুতি হবে। প্রত্যেক দলকে সাফের জন্য তৈরি হতে সাহায্য করবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলেও সম্প্রতি হামজা চৌধুরীসহ কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ দল সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
সুজন: হামজা একজন বড় মানের খেলোয়াড়। সে বাংলাদেশ দল ও দেশের জন্য অনেক শক্তি ও উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে। সবাই তাকে দেখার জন্য এবং ফুটবল নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। দলটাও এখন রূপান্তরের সময় পার করছে। ধীরে ধীরে ভালো ফল আসছে। সঠিক পরিকল্পনায় চললে বাংলাদেশ ইতিহাস বদলে দিতে পারে।
প্রশ্ন: সবশেষে জানতে চাই, বাংলাদেশে কি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করছেন?
সুজন: এটা খুব ব্যস্ত একটি দেশ, মানুষ খুব পরিশ্রমী এবং সবসময় বন্ধুসুলভ ও অতিথিপরায়ণ। এখানে সময়টা আমি খুব উপভোগ করছি। বেশি ঘোরার সুযোগ হয়নি, তবে মৌসুম শেষ হলে দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করে আরও ধারণা নেওয়ার ইচ্ছে আছে।